তাবলীগ বিরোধীদের নতুন সুন্নী ইজতেমা নিয়ে উত্তেজনা

০৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:০৩ পিএম | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৯ এএম


তাবলীগ বিরোধীদের নতুন সুন্নী ইজতেমা নিয়ে উত্তেজনা
‘নরসিংদী জেলা সুন্নী ইজতেমা’ নামে তাবলীগ বিরোধীদের নতুন ইজতেমা নিয়ে নরসিংদী তাবলীগ জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা এই সুন্নী ইজতেমাকে কথিত সুন্নী ইজতেমা আখ্যায়িত করে এই নকল ইজতেমাকে বন্ধ করার জন্য নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। ইসলামপুর মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মুফতি আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এই আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, প্রায় প্রতি বছর নরসিংদী জেলায় জেলা তাবলীগের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মুসল্লীর সমাগম ঘটে। গত বছর এই জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছিল শিবপুরের কারারচর এলাকায়। তাবলীগ জামায়াতের মুরব্বীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর শিবপুরের সৈয়দ নগর এলাকায় জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে তাবলীগের মুরব্বীরা জেলা তাবলীগ জামায়াত সংগঠনের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এই খবর প্রচারিত হবার পর তাবলীগ জামায়াত বিরোধীরা তাবলীগ জামায়াতের ঘোষিত স্থানের পাশাপাশি স্থানে নরসিংদী জেলা সুন্নী ইজতেমা নাম দিয়ে পাল্টা জামায়াতের আয়োজন করেছেন। কাউন্টার ইজতেমার আয়োজন বন্ধ করার জন্য তাবলীগের মুরব্বীরা সুন্নী ইজতেমার লোকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা তাদের অনুরোধ এড়িয়ে যান। এ অবস্থায় জেলাব্যাপী তাবলীগপন্থী মুসল্লীদের মধ্যে নতুন ইজতেমা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাবলীগের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। এই সুন্নী ইজতেমা নিয়ে মারামারি হওয়ার আশংকা করেছেন আবেদনকারীরা। তারা বলছেন এখানে এই সুন্নী ইজতেমা বন্ধ করা না হলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার আশংকা রয়েছে। তারা জেলাব্যাপী লাখো মুসল্লীর বৃহৎ ইজতেমার ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষার্থে তাবলীগ বিরোধী তথাকথিত সুন্নী ইজতেমাটি অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের নিকট আবেদন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও মেরাজুল উলুম বৌয়াকুড় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা ইসমাইল নূরপুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নরসিংদী জেলা সুন্নী ইজতেমা নামে কথিত ইজতেমা আয়োজনকারীরা প্রকৃত পক্ষে তবলীগ ও ইজতেমা বিরোধী। তারা কোন দিনই তবলীগ বা ইজতেমা করেছে বলে জানা যায়নি। উপরন্তু এরা তবলীগ জামায়াতসহ দেওবন্দী আলেমদেরকে কাফের বলে থাকেন। এরা ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে। এরা কথিত ইজতেমার নামে হক্কানী আলেম ওলামাদের নিন্দাবাদ করার জন্য এই কথিত ইজতেমার আয়োজন করেছে। এখানে তারা উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ সৃষ্টির পায়তারা করছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে এই ইজতেমা বন্ধ করা উচিত বলে জানান তিনি।