সৌদিতে একমাস ধরে নিখোঁজ নরসিংদীর ফয়সাল

২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৫২ পিএম | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম


সৌদিতে একমাস ধরে নিখোঁজ নরসিংদীর ফয়সাল

শরীফ ইকবাল রাসেল:
সৌদি আরবে প্রায় একমাস ধরে নিখোঁজ নরসিংদীর ছেলে ফয়সাল। তার নিখোঁজের খবরে দেশের মাটিতে উদ্বিগ্ন ফয়সালের বাবা-মা। সন্তাদের সন্ধান পেতে সরকারের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোন সন্ধান না পেয়ে অঝোরে কাঁদছেন মা মরিয়ম বেগম ও বাবা রহিম গাজী। নিখোঁজ ফয়সাল গাজী নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আব্দুর রহিম গাজীর দ্বিতীয় ছেলে।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ফয়সাল গাজীর নিজ বাড়ি আলীপুরে সরেজমিন গেলে তার বাবা রহিম গাজী জানান, চার ছেলের মধ্যে ফয়সাল দ্বিতীয়। কৃষিকাজ করে অভাব অনটনের সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছিলো। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রায় ১৫/১৬ বছর আগে সৌদিতে পাড়ি জমায় ফয়সাল। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যা হলেও আস্তে আস্তে তা কাটিয়ে উঠে সে। বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর বাড়িতে এসে ছুটি কাটিয়ে যায় ফয়সাল। এ যাওয়াই যেনো তার শেষ যাওয়া। খবর আসে গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে মদিনায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয় ফয়সাল।

নিখোঁজের খবর জানতে পেরে ফয়সালের সাথে থাকা বাংলাদেশের অন্যান্য বন্ধুরা সৌদির বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলাখানায় খবর নিয়েও ফয়সালের সন্ধান পাননি। তবে কেউ কেউ নাকি বলেছেন সৌদির একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় নিখোঁজ ফয়সালের মা মরিয়ম বেগম ১১ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর গত ১২ নভেম্বর জেদ্দায় নিখোঁজ ফয়সালের সন্ধানের জন্য দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার লিখিত তাগিদ দেয়া হয় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) আমিনুল ইসলামকে। কিন্তু অদ্যাবধি কাউন্সেলর (শ্রম) নিখোঁজ ফয়সালের বিষয়ে কোনো কার্যকরী ফলাফল দেখাতে পারেননি। এতে নিখোঁজ ফয়সাল গাজীর মা-বাবসহ পরিবারের লোকজন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

ফয়সালের বড় ভাই কুয়েতে কর্মরত কাওসার গাজী ফোনে জানান, গত ২৮ অক্টোবর ফয়সালের মাকে মোবাইলে ফোন করে মদিনা থেকে দোয়া প্রার্থনা করেন ফয়সালের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন এবং বলেন ফয়সালের সন্ধানের জন্য চেষ্টা চলছে।
ফয়সালের রুমমেট কিশোরগঞ্জের গিয়াস উদ্দিন ঐ রাতে বাসায় গিয়ে ফয়সালের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন ধরেনি ধরেনি ফয়সাল। সন্ধার পর থেকে তার মোবাইলটিও বন্ধ হয়ে যায়।

নিখোঁজ ফয়সালের বড় ভাই কাউসার গাজী আরও বলেন, ভগ্নিপতি নাজিম উদ্দিন ও তার চাচা গত ৪ মার্চ ওমরাহ পালন করতে মদিনায় গিয়ে এক পাকিস্তানী গাড়ী চালকের ধাক্কায় মারা যায়। এ ঘটনায় ফয়সাল দুর্ঘটনায় নিহত ভগ্নিপতি ও তার চাচার পক্ষে মামলা দায়ের করেন পাকিস্তানী ওই গাড়ী চলকের বিরুদ্ধে। মামলায় পাকিস্তানী চালককে আটক করে সৌদি পুলিশ। মামলার শুনানিতেও একাধিকবার আদালতে হাজির হয়েছিল ফয়সাল। দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার উক্ত মামলার বাদী ফয়সালের মাধ্যমেই ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার কথা ছিল।