রায়পুরায় কৃষকনেতা ফজলুল হক খোন্দকারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

২০ মার্চ ২০২১, ০৫:১৫ পিএম | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৩:০৭ এএম


রায়পুরায় কৃষকনেতা ফজলুল হক খোন্দকারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর রায়পুরায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক খোন্দকারের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত শতদল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি গণপাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়।

ফজলুল হক খোন্দকার স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মতিউর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তাফা মিয়া, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য রঞ্জিত কুমার সাহা, উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বেনু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফজলুল হক খোন্দকার স্মৃতি পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন খোন্দকার। এর আগে কৃষক নেতার সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

ফজলুল হক খোন্দকার ২০১২ সালের ১৯ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। আজীবন সংগ্রামী ও শিক্ষাব্রতী ফজলুল হক খোন্দকারের জন্ম ১৯২৭ সালের ৩ জুলাই নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার বাহেরচর গ্রামে। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন চিরকুমার। 

তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায়ই প্রখ্যাত কৃষকনেতা হাতেম আলী খান ও ইলামিত্রের স্বামী রমেণ মিত্রের সংস্পর্শে এসে বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশে হাট-বাজার ইজারা বিরোধী আন্দোলন, জলমহাল ইজারা বিরোধী আন্দোলন ও কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এসব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।

এছাড়া তিনি এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে কাপাসিয়া ও নরসিংদীতে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপন করেন ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে নিরলস কাজ করেন। পরিবেশের কথা চিন্তা করে তিনি গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় তিন লক্ষের অধিক বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি গরীব মানুষের চিকিৎসার জন্যে স্থাপন করেন চেতনা চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র। গ্রামীণ এলাকায় গরীব মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন ল্যাট্রিন ও নলকূপ।