‘বিশ্বসেরা’ ফুটবলার হওয়ার পথে নেইমার

১১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৩৩ পিএম | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৮:৩২ পিএম


‘বিশ্বসেরা’ ফুটবলার হওয়ার পথে নেইমার

স্পোর্টস ডেস্ক:

বার্সেলোনার সুখের সংসার ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) আসতে নিশ্চয়ই বুকটা ফেটে যাচ্ছিল নেইমারের। কিন্তু ক্যারিয়ার বলে কথা! বিশ্বসেরা ফুটবলার হতে হলে তো তাকে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হতো। মেসির ছায়ায় থেকে আর কতদিন!

নেইমার কি ভুল করেছেন? ২০১৮ সালে রেকর্ড ট্রান্সফারে পিএসজিতে আসার পর থেকেই সময়ে অসময়ে এই প্রশ্নটা মুখের সামনে এসে ঘন্টা বাজিয়েছে। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার ধৈর্য্য ধরেছেন, মনোযোগ দিয়েছেন নিজের পারফরম্যান্সে।

২৮ বছর বয়সে এসে কি অবশেষে স্বপ্নপূরণের ঝকঝকে সিঁড়িটা দেখতে পাচ্ছেন পিএসজি তারকা? হ্যাঁ, পরিসংখ্যান বলছে, নেইমার তার স্বপ্নের খুব কাছাকাছি এসে পড়েছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বয়স ৩৫ পেরিয়েছে, ৩৪ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসিও আগের মতো ফর্মে নেই। সেরার দৌড়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেইবা আছে?

গত আগস্টের ঘটনা। পিএসজিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তুলে নেইমার বলেছিলেন, ‘আমি প্যারিসে আসার পর এই মুহূর্তে সেরা ফর্মে।’ কেন বলেছিলেন? ফাইনালে ওঠার পথে শেষ ষোলতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে দুই গোল, আটলান্টার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ে একটি অ্যাসিস্ট আর সেমিফাইনালে লাইপজিগের বিপক্ষে আরেকটি গোলে অবদান ছিল নেইমারের। তিনি এমন কথা তো বলতেই পারেন!

এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে লাইপজিগের বিপক্ষে একটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুটি আর ইস্তাম্বুল বাসেকসেহিরের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে তো হ্যাটট্রিকই করে বসলেন নেইমার। ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে উঠেছে তার দল পিএসজি।

প্রথমবারের মতো ক্যারিয়ারে নেইমার টানা দুই ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করেছেন। সেই গোলগুলোও এমন সময়ে, যখন তাকে দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।

তুরস্কের দল বাসেকসেহিরের বিপক্ষে পিএসজির পাঁচ গোলের সব কটিতেই কোনো না কোনোভাবে অবদান ছিল নেইমারের। তার মধ্যে নিজের প্রথম গোলটি করেছিলেন বাসেকসেহিরের এক ডিফেন্ডারকে ‘নাটমেগ’ করে চোখ ধাঁধানো এক ‘কার্লিং’ শটে।

ওই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ফাউলও (৬ বার) হয়েছেন নেইমার। সবচেয়ে বেশি শট তার (৮টি), যার মধ্যে ৬টিই ছিল অন টার্গেট। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ড্রিবল (১৩) করেছেন পিএসজি ফরোয়ার্ড, সফল হয়েছেন ৫টিতে।

২০১৩ সালে বার্সেলোনার খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে সেল্টিকের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের কীর্তি দেখিয়েছিলেন নেইমার। ২০১৮ সালে রেড স্টারের বিপক্ষে করেন আরেকটি হ্যাটট্রিক, এবার পেলেন তৃতীয়টি। একমাত্র রোনালদো আর মেসিরই বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ ফরমেটে নেইমারের চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক আছে (৮টি করে)।

বুধবার তিন গোল করে ব্রাজিলিয়ান তারকা পেছনে ফেলেছেন সার্জিও আগুয়েরো আর রিভালদোকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নেইমারের অবস্থান এখন ১৬তম।

ইউরোপে ৬৫ ম্যাচ খেলে নেইমার গোল করেছেন ৪১টি, সঙ্গে আছে ২৪টি অ্যাসিস্টও। স্ট্রাইকার না হয়েও এই মৌসুমে পাঁচ বা তার বেশি গোল করার রেকর্ড নেইমার ছাড়া কেবল তিনজনের। ছয়টি করে গোল করেছেন মার্কাস রাশফোর্ড, আরলিং হালান্ড এবং আলভারো মোরাতা।

পিএসজির হয়ে ৯৬ ম্যাচে ইতোমধ্যে ৭৮ গোল হয়ে গেছে নেইমারের, অ্যাসিস্ট ৪০টি। ২০ গোল নিয়ে ক্লাবটির ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন নেইমার। তার ওপরে আছেন কেবল এডিনসন কাভানি (৩০ গোল)। পারফরম্যান্সই তো কথা বলছে, বিশ্বসেরা হওয়ার পথ আর কতদূর!


বিভাগ : খেলা