বেলাবতে নিষেধাজ্ঞার পরও প্রতিরাতেই চলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান!

১২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩৩ পিএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৭ এএম


বেলাবতে নিষেধাজ্ঞার পরও প্রতিরাতেই চলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান!

শেখ আব্দুল জলিল:
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও চলছে ওয়াজ, ওরশ, বাউল গান, নাটক সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। করোনা পরিস্থিতিতেও প্রতিরাতেই অনুষ্ঠিত এসব অনুষ্ঠানের আয়োজক ও আগন্তুক দর্শক কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

করোনার কারণে বেশি লোকের সমাগম হয় এমন সকল অনুষ্ঠান আয়োজন হতে বিরত থাকতে স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা থাকলেও আয়োজকরা এসব বিধি নিষেধের তোয়াক্কা করছেন না। এছাড়াও প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খেলাধুলা, সুন্নতে খৎনা, বিয়ে অনুষ্ঠানও হচ্ছে বড় পরিসরে। সেখানেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি। অনুমতিহীন এ সকল অনুষ্ঠান বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশংকা করছেন সচেতন মহল। প্রশাসন বলছে, প্রশাসন যেসব অনুষ্ঠানের খবর পায় তাৎক্ষনিক সেসব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও কমানো যাচ্ছে না লোক সমাগমের অনুষ্ঠানগুলো। এছাড়া এসব অনুষ্ঠানকে ঘিরে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটছে। শুক্রবার রাতে বীর বাঘবের টান পাড়া গ্রামে ওয়াজ শেষে এক ব্যক্তির উস্কানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়।

সরেজমিনে উপজেলার বেলাব, আমলাব, বাজনাব, বিন্নাবাইদ, নারায়ণপুর, সল্লাবাদ, চরউজিলাব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, প্রশাসনের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রভাবশালী ও অতি উৎসাহী লোক প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করেন এসব অনুষ্ঠান। গত ১১ ডিসেম্বর বীরবাঘবের টানপাঁড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় একটি ওয়াজ মাহফিল, ১২ ডিসেম্বর পাহাড় উজিলাব গ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিলের পোষ্টার বিলি করা হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর চর কাশিমনগর নতুন মোড় নামক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে মঞ্চ নাটক, ১৫ ডিসেম্বর বীব বাঘবের গ্রামের লাল পুকুর পাঁড় নামক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি ওয়াজ মাহফিল, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর দুইদিন ব্যাপী পাহাড় উজিলাব পাঁচ আউলিয়ার দরগায় অনুষ্ঠিত হবে বাৎসরিক ওরশ ও বাউল গান।

এছাড়া প্রতি সপ্তাহে আমলাব ইউনিয়নের আব্দুল্লাহনগর গ্রামের একটি পুরাতন কবরকে দরগা বানিয়ে বাউল গানের আয়োজন করে থাকে উক্ত দরগার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। সল্লাবাদ ল্যাংটার মাজার সহ বিভিন্ন মাজার ও বাড়িতে প্রতিরাতেই অনুষ্ঠিত হয় বাউল গানের আসর। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হয় বড় বড় ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট।

করোনাকালীন যেখানে লোক সমাগম নিষেধ, এসব বন্ধে প্রশাসনও যেখানে রয়েছে কঠোর অবস্থানে। সেখানে প্রতিদিন ও প্রতিরাতেই উপজেলার কোন না কোন এলাকায় পাল্লা দিয়ে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এসব অনুষ্ঠানের ছাপানো পোস্টার সাটানো সহ বিলিও করা হচ্ছে জনগণের মাঝে। অথচ এসব পোস্টার ও লিফলেটে অতিথিদের মধ্যে যাদের নাম দেয়া হচ্ছে তারাও জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারী কর্মকর্তা সহ সমাজের উচ্চ পর্যায়ের লোক। অন্যদিকে থানা পুলিশকে না জানিয়ে এসকল অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় পূর্ব থেকে অবগত হতে পারছেনা প্রশাসন।

যোগাযোগ করা হলে বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাফায়েত হোসেন পলাশ বলেন, উপজেলার কোথাও এরকম কোন অনুষ্ঠান হতে দেয়া হচ্ছে না। যখনই আমরা খবর পাই, তখনই ফোর্স পাঠিয়ে লোক সমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছি।

বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা শরমিন বলেন, করোনাকালীন লোক সমাগম হবে এমন অনুষ্ঠান করা যাবে না। এসব অনুষ্ঠান বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হতে হবে। আমরা যখনই এসকল অনুষ্ঠানের খবর পাচ্ছি তখনই তাৎক্ষনিকভাবে এসব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছি।