লিবিয়ায় শিগগিরই মোতায়ের হবে তুর্কি সেনা : এরদোয়ান

২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৩ পিএম | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২০, ০২:২৩ এএম


লিবিয়ায় শিগগিরই মোতায়ের হবে তুর্কি সেনা : এরদোয়ান

টাইমস আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুদ্ধকবলিত লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার তুরস্ককে সেনা মোতায়েনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, এমন তথ্য দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, লিবিয়ায় সেনা পাঠানোর জন্য সংসদে একটি বিল পাস করা হবে। আগামী মাসের মধ্যে দেশটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েন করা হবে।

চলতি মাসের শুরুতে লিবিয়ার উত্তরাঞ্চল দখল করা ভূমিপুত্র খলিফা হাফতারের বাহিনীকে মোকাবিলায় লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের একটি চুক্তি সই হয়। এরদোয়ান বলেছেন, জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়া সরকারকে সহযোগিতা করতে জানুয়ারি মাসেই তুর্কি সংসদে তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি একটি বিল আনবে।

গতকাল রাজধানী আঙ্কারায় তার দলের সদস্যদের এক সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় এমনটা জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, যেহেতু লিবিয়ার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ আছে সেক্ষেত্রে আমরা তা গ্রহণ করবো এবং আমরা শিগগিরই লিবিয়ায় সেনা পাঠানোর ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা সংসদের কার্যতালিকায় আনবো।

তিনি আরও জানান, আগামী ৮ অথবা ৯ জানুয়ারি সংসদে এ বিল পাস হবে। লিবিয়া সরকারের সঙ্গে তুরস্ক সম্প্রতি যে সামরিক চুক্তিটি করেছিলে ইতোমধ্যে তুরস্কের সংসদে তা অনুমোদন করা হয়েছে। তবে লিবিয়ায় সেনা পাঠাতে হলে সংসদ থেকে তার জন্য আলাদাভাবে অনুমোদন নিতে হবে।

ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী দেশ লিবিয়ায় সেনা পাঠানোর ব্যাপারে তুরস্ক ও লিবিয়া সরকারের মধ্যে চুক্তির পর থেকেই দেশটির জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের পক্ষে লড়তে তুরস্ক সেনা পাঠানোর ব্যাপারে আগ্রহী। তবে তুর্কি সহায়তায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষ আরও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এমন পদক্ষেপের কারণে উত্তর লিবিয়ার সামরিক ভূমিপুত্র খলিফা হাফতারের বাহিনীর সঙ্গে লিবিয়া সরকারের সামরিক সংঘাত আরও বাড়বে। হাফতার এখন জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাজধানী ত্রিপোলি অভিমুখে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

হাফতার বাহিনীকে এই লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছে প্রতিবেশী মিসর ও পারস্য উপসাগর সংলগ্ন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। ফলে তুরস্কের সমর্থনে লিবিয়া সরকার হাফতার বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে এই দুই দেশও তাতে যোগ দিবে। ফলে বৃহৎ এক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত ফয়েজ আল সিরাজ সরকারের হাতে এখনো সীমিত সংখ্যক ড্রোন এবং অস্ত্র সরঞ্জাম আছে। যদি তুরস্ক ত্রিপোলিতে তাদের সেনা পাঠায় তাহলে এই ঘাটতি পূরণ হবে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া সম্প্রতি ত্রিপোলিতে আমিরাতে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে সেনা পাঠানোর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর লিবিয়ার উপকূলবর্তী শহর মিসরাটায় বোমা হামলা করে সেনা ও অস্ত্র সরঞ্জাম না পাঠানোর ব্যাপারে তুরস্ককে হুঁশিয়ার করেছে আরব আমিরাত ও মিসর সমর্থিত খলিফা হাফতারের বিমানবাহিনী।


বিভাগ : বিশ্ব