নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী রাজনীতির হালচাল
২৪ জুলাই ২০১৯, ০৪:৪৯ পিএম | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫১ পিএম

নূর হুমায়রা আহমেদ পিংকী:
আমি মনে করি নারী নেতৃত্বের দিক হতে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। মুখে যতই সমঅধিকারের কথাই বলি না কেন, বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা।
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মূখপাত্র হিসেবে নারীদের দেখা গেলেও, মাঠ পর্যায়ের নারী নেতৃত্বের সংকটই বলা চলে। একজন কর্মী থেকে নেতৃস্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত এক নারীকে তার সর্বধাপ অতিক্রম করে আসা কল্পনাতীত। আর ইসলামী দলগুলোতে তো নেই বললেই চলে। মোট কথা এদেশে রাজনৈতিক দল কিংবা সামাজিক ক্ষেত্রে নারীদের জায়গা করে নেয়া অতটা সহজ ব্যাপার নয়, বিশেষ করে সামাজিক সংগঠন কিংবা মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থানে অন্য নারীরা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।পাছে ক্ষমতায়িত নারীদের পদ নড়বড়ে হয়ে যাবে ভেবে আগত নারীদের স্বাগত জানাতে তারা পিছপা হয়। তাদের নিজেদের যোগ্যতা বা কর্মদক্ষতার উপর একেবারেই ভরসা নেই তাদের। এছাড়াও নারীর দৈনন্দিন পথ চলায় সমাজের কিছু রাক্ষুশে মুখোষধারী পাতি নেতাদের অসুস্থ মনের বিকৃত খোরাক না মিটাতে পারলে নারীদের সম্ভাবনার পথ বড়ই সংকীর্ণ থেকে যায়। অবশ্য আজকের লেখা ঐ সকল নারীদের জন্য নয় যারা কঠিন সংগ্রাম করে সমাজে ও রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছেন।
অনেকে বলে থাকেন, নেতাদের খুশি না করতে পারলে নাকি উপরে উঠা সম্ভব নয়! অনেক নেতাকর্মী ভাই বোন এরকম পরামর্শও দিয়ে থাকেন। কিছু ক্ষেত্রে এই মানসিকতা প্রায় একটা প্রথাই হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। ইদানিং উঁচু পদের নেতাদের কথার ধরনও এমন হয়ে গেছে। তাদের ধারনা নারীরা একের পর এক আবদার করে যাবেন আর তারা মুক্তমনে সেগুলো পুরণ করে নিজে মহান দিলওয়ালা বনে যাবেন। বিনিময়ে নারীদের কাছে যখন যা খুশি চেয়ে নিবেন নতুবা তার চলার পথে চিরদিনের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবেন। আর যখন এসব চুক্তিতে বনিবনা হবে না তখন ঐ নারীটির কন্ঠরোধের যত্ত রকম ফন্দি আছে তার পুরোটাই চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে তার নামে বিভিন্ন কুৎসা রটনা করে, অপবাদ দিয়ে, বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। তবে সেই দিলওয়ালাদের বলে রাখি সেরকম ভুলেও ভাবতে যাবেন না। এ ক্ষেত্রে আপনাদের নজরুলের সেই বিখ্যাত উক্তি মনে করিয়ে দিতে চাই-
সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না'ক
নারীরা আছিল দাসী।
একটা মেয়ে যখন রাজনীতি বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসে তখন তাকে তার সহকর্মীরা একটু সুযোগ করে দিলে এ সমাজের মেয়েদের আর পিছনে পড়ে থাকতে হতো না। সামাজিক এ সব বিপত্তি দুপায়ে দলে যেসব মেয়েরা এগিয়ে এসেছেন তারাই হয়েছেন সফলকাম। অন্যদিকে যারা এগুলোর ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তারা আর কখোনোই আলোর মুখ দেখেননি।
রাজনৈতিক বা সামাজিক ভাবে একটা সফলতার স্থানে পৌঁছানোর জন্য নারীদের কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। মাঠপর্যায়ের নারীরা কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত কখনও পৌঁছাতে পারবে না যদি স্বল্প দৈর্ঘের রাস্তা পরিহার না করে। কারো বিশেষ খেয়াল খুশিতে নারীদের রাজনীতি করা না করার দিন শেষ হয়ে গেছে। নারীরা শিক্ষিত হচ্ছে, হচ্ছে স্বাবলম্বী। তারা আজ পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিচ্ছে। নেতাদেরও মনে রাখতে হবে নারীরা আজ ইট খেলে পাটকেল দিতে জানে। তাদের মূল্যায়ন করুন মানুষ হিসেবে নারী হিসেবে নয়। আপনারা মনে রাখুন আপনারা নারীদের দাতা নন বরং সহকর্মী। দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের মূল্যায়ন করা উচিত। অবশ্য এদেশে এ ব্যাপারে অনেক দিন ধরেই রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সমস্ত পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মতো দলে নারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও ২০ শতাংশের ওপরে নারী সদস্য নেই কোনো রাজনৈতিক দলেই। সবেচেয়ে খারাপ অবস্থা ধর্মভিত্তিক ইসলামী দলগুলোর মধ্যে। খেলাফত মজলিস নামে দলটির কেন্দ্রীয় বা তৃণমূলের কোনো কমিটিতেই কোনো নারী সদস্য নেই।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আসগর বলেন, দলটির সারাদেশে সদস্য সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের মতো। তার দুই শতাংশ নারী সদস্য বলে তারা দাবি করেন। তার মতে, পুরুষরাই তো নেতৃত্ব দেবেন। নারীরা পুরুষদের সহযোগী। মহিলাঙ্গণে মহিলারা নেতৃত্ব দেবেন। আমাদের পলিসিটা সেটাই। সভা সমাবেশে তাদের যাওয়ার দরকার নেই। দেশে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামী ধর্মভিত্তিক দল ১১টি। এদের মধ্যে এমন দলও আছে যাদের কেন্দ্রীয় বা তৃণমূলের কোনো কমিটিতেই কোনো নারী সদস্য নেই।
বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে বরিশালের একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী নিগার সুলতানা হনুফা বলেন -"সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হলে নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করে কিন্তু মূল দলে কাজ করার ব্যাপারে পুরুষ সহকর্মীরা কতটা সহায়তা করে জানতে চাইলে তিনি কিঞ্চিৎ কথা এড়িয়ে বললেন- এটা কাজের মধ্য দিয়ে করে নিতে হয়"।
আওয়ামী লীগ নেতা, নুহ আলম লেলিন বলেছিলেন, "বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীদের অংশ দিন দিন বাড়লেও, সক্রিয় রাজনীতিতে নারীদের নিয়ে আসা এখনো চ্যালেঞ্জ"।
তবে এ চ্যালেঞ্জ আমাদের সকলের। কাউকে তেল মেরে কিংবা নিজেকে কারো ভোগ্যপণ্য বানিয়ে উপরে ওঠার রাস্তা না খোঁজে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে রাজনৈতিক বা সামাজিক অঙ্গনে আসন অর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন নিজের সততা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই নিজেদের প্রাপ্য আসনে অধিষ্টিত করবে। পাছে লোকে কিছু বলে এই কথা মনে ধারন করে নারী রাজনীতিকে কলংক মুক্ত করতে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সকল নারীদের।এই আন্দোলনে যে সকল পুরুষ নারীদের পাশে থাকবে তারা একজন সুপুরুষ হিসেবেই চিরদিন মূল্যায়িত হবে।
লেখক: নূর হুমায়রা আহমেদ পিংকী, শিক্ষিকা ও সমাজকর্মী
বিভাগ : মতামত
- নরসিংদীর মহাসড়কে ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে টহল-তল্লাশীতে র্যাব
- নরসিংদীতে ঈদের নতুন জামা পেয়ে খুশি পথশিশুরা
- মনোহরদীতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার
- পলাশে যুবককে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার
- ভৈরবে এমইউএসটি’র মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ
- শিবপুরে ভুট্টাখেতে মিলল বস্তাবন্দি মরদেহ
- ২৭ মার্চ সামসুদ্দীন আহমেদ এছাকের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী
- পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের মদদে নির্বাচন বানচাল করার পায়তারা হচ্ছে :খায়রুল কবির খোকন
- বেলাবতে মহিলা পরিষদের বিভিন্ন অনুদান বিতরণ
- মনোহরদীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে নদীর পাড়ে ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ
- নরসিংদীর মহাসড়কে ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে টহল-তল্লাশীতে র্যাব
- নরসিংদীতে ঈদের নতুন জামা পেয়ে খুশি পথশিশুরা
- মনোহরদীতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার
- পলাশে যুবককে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার
- ভৈরবে এমইউএসটি’র মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ
- শিবপুরে ভুট্টাখেতে মিলল বস্তাবন্দি মরদেহ
- ২৭ মার্চ সামসুদ্দীন আহমেদ এছাকের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী
- পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের মদদে নির্বাচন বানচাল করার পায়তারা হচ্ছে :খায়রুল কবির খোকন
- বেলাবতে মহিলা পরিষদের বিভিন্ন অনুদান বিতরণ
- মনোহরদীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে নদীর পাড়ে ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ