পলাশে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে উদ্ধার করলো পুলিশ

০৯ জুন ২০২১, ০৭:৫৫ পিএম | আপডেট: ১৬ জুন ২০২১, ১০:০৬ পিএম


পলাশে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে উদ্ধার করলো পুলিশ

পলাশ প্রতিনিধি:
নরসিংদীর পলাশে যৌতুকের জন্য অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাবরিনা শাজাহান (৩২) নামে দুই সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ। এসময় ৯৯৯ এ কল দেয়া হলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ জুন) রাতে পলাশ থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। এর আগেও একাধিকবার অসহায় ওই গৃহবধূর ওপর নির্যাতন করেন তার স্বামী নজরুল ইসলাম (৩৫)।


থানায় অভিযোগ সূত্রে ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সাবরিনার সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাধে পরিচয় হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের আবদুল আজিজ মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলামের সাথে। সেই পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় বিয়ের বন্ধনে। সংসার জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বর্তমানেও তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক লোভী নজরুল ইসলাম বিভিন্ন বাহানায় সাবরিনার পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে বাধ্য করে। সন্তানের সুখের দিকে চেয়ে সাবরিনার পরিবারও একাধিকবার নজরুল ইসলামের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিয়েছেন।
গেল বছরও ফের নজরুল ইসলাম টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে স্বামীর মন রক্ষার্থে সাবরিনা তার ফুফু লুৎফুর নাহারের হাতে পায়ে ধরে ৬ লাখ টাকা এনে দেয়। কিন্তু এতেও মন ভরেনি স্বামী নজরুল ইসলামের। গৃহবধূ সাবরিনার পরিবারের কাছ থেকে আবারও ১০ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য প্রায় ৫ মাস ধরে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে নজরুল। কিন্তু তার দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালেই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সাবরিনার ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।


সর্বশেষ গত সোমবার রাতে নজরুল ইসলামের দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য পলাশ নতুন বাজার এলাকায় নজরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় গৃহবধূ সাবরিনার ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করলে তিনি প্রাণে বাঁচার জন্য ৯৯৯ এ কল দেন। তারপর পুলিশ গিয়ে গৃহবধূ সাবরিনাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এসময় অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।


পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দীন জানান, ৯৯৯ থেকে কল আসার পর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গৃহবধূ সাবরিনা শাহাজানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এসময় অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পালিয়ে যায়। এব্যাপারে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।