নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেটাঁবিদ্ধে তিনজন আহত

১৯ মার্চ ২০২১, ০২:৩৭ পিএম | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২১, ১২:৩৭ এএম


নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেটাঁবিদ্ধে তিনজন আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর মাধবদীর চরদীঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। আজ শুক্রবার (১৯ মার্চ) ভোর পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার মাধবদীর থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নের চরদীঘলদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, হযরত আলীর ছেলে মো. ইউনুস (২১) ও নাসির মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩০)। অজ্ঞাত অপর টেঁটাবিদ্ধ ব্যক্তিকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আহত দুইজনকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই চরদীঘলদী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুইটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুইটি গ্রুপের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ও অন্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মনসুর। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ভোর পাঁচটার দিকে শওকত আলীর সমর্থকরা চেয়ারম্যান আবু মনসুরের সমর্থকদের বাড়িঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের হাতে ছিল টেঁটা, দা ও বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র। ওই হামলায় তিনজন টেঁটাবিদ্ধসহ মোট মোট পাঁচজন আহত হন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন টেঁটাবিদ্ধ মো. ইউনুস অভিযোগ করে বলেন, শওকত আলীর সমর্থকরা ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের ওপর হামলা চালায়। আলী হোসেন, আলী আজগর, জাহাঙ্গীর, আজিজ, নূর মোহাম্মদ ও মুক্তারসহ শতাধিক লোক মিলে এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ তার।

নরসিংদীর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজী সরকার বলেন, একজনকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার হাত ও পা থেকে টেঁটা অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুজন আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চরদীঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মনসুর জানান, গতমাসের ১৭ তারিখে ওই গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে আমাদের লোকজনের জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধ হয়েছিল। ওই সংঘর্ষে আমাদের লোকজন আহত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। গতকাল সন্ধ্যায় তারা যার যার বাড়িতে ফিরলে আজ ভোরে শওকত আলীর লোকজন পুনরায় এই হামলা চালায়। এতে আমার পাঁচ সমর্থক টেঁটাবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন।

জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জানান, আমি বা আমার সমর্থকরা কোনভাবেই এই হামলার সঙ্গে জড়িত নই। এলাকায় মাদক ব্যবসা করে এমন তৃতীয় একটি পক্ষ এই হামলা চালিয়ে এর দায় আমাদের ওপর চাপাতে চাচ্ছে।

মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আগের বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।