নরসিংদীতে চাহিদার চেয়েও বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত

২৮ জুন ২০২১, ০৮:৩১ পিএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১, ১০:৫৫ পিএম


নরসিংদীতে চাহিদার চেয়েও বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মত এবারও কোরবানির পশু মোটাতাজা করেছেন নরসিংদীর কৃষক ও খামারিরা। হরমোন ইনজেকশন এবং রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ না করে দেশিয় খাবার খাইয়ে এসব পশু মোটাতাজা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরের পশু আমদানি বন্ধ থাকায় ঈদের হাটে এসব পশু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন খামারিরা। তবে গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে পশু লালন পালন খরচ বেড়েছে বলে জানান তারা। জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদার বিপরীতে বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মত এবারও গরু-মহিষসহ কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় পশুর যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও গরুর খামারিরা। অনেকে ৬ থেকে ১১ মাস আগে দেশের পশুর বিভিন্ন হাট ঘুরে গরু, মহিষ ও ছাগল কিনে লালনপালন শুরু করেন। খামারীদের পাশাপাশি লাভের আশায় পারিবারিকভাবেও অনেক কৃষক গরু, ছাগল ও মহিষ মোটাতাজা করছেন। বিশেষ করে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে দেশিয় খাবার খৈইল, কুড়া, চাউলের খুদ, ছোলা, সয়াবিন, ভুষি, কাচা ঘাস ও খড় খাইয়ে। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক ও পশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোন ওষুধ তারা গরুকে খাওয়ান না। কারণ তাতে গরুর জন্য মৃত্যু ঝুঁকি হতে পারে। যে কোন মুহূর্তে গরু মারা গেলে লোকসানের আশংকা থাকে। তবে গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে পশুর লালন পালন খরচ বেড়েছে বলে জানান খামারিরা।

জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার ৬ উপজেলায় ছোট বড় ৬ হাজার ৭ শত ৬২ জন খামারি দেশীয় পদ্ধতিতে কোরবানির পশু মোটাতাজা করছেন। এরমধ্যে ষাড় ৩১ হাজার ৪০৭টি, বলদ ৯ হাজার ৮৫০টি, গাভী ৫ হাজার ৪৯২টি, মহিষ ১ হাজার ৫১৮টি, ছাগল ৯ হাজার ৬৫১টি ও ভেড়া ২ হাজার ৯১৮টি। এর বাইরেও পারিবারিকভাবে আনুমানিক ১০/১২ হাজার কৃষক ১-২টি করে কোরবানির পশু বিশেষ করে গরু ছাগল মোটাতাজা করছেন।
নরসিংদী জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে সরবরাহ করা হবে এসব পশু। দেশিয় খাবার খাওয়ানো ও ক্ষতিকর ঔষধ প্রয়োগ না করায় কোরবানির পশুর হাটে বাজারে এসব গরুর চাহিদা থাকে বেশি। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে লকডাউন ও সরকারের কঠোর নির্দেশনার কারণে সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরের পশু আমদানি এখনও পর্যন্ত বন্ধ থাকায় এবার পশু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন খামারিরা।

শিবপুর উপজেলার মুন্সেফের চর (ইটাখোলা) গ্রামের খামারি কিবরিয়া গাজী বলেন, প্রতি বছরই কোরবানি ঈদকে ঘিরে শতাধিক গরু লালন পালন করে মোটাতাজা করে থাকি। এ বছর গো খাদ্যের দাম বেশি থাকায় ৬০টি গরু কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারও করোনার কারণে দেশের বাইরের গরু আমদানি বন্ধ থাকায় ন্যায্য মূল্যে এসব গরু বিক্রি করতে লাভবান হতে পারবো বলে আশা করছি।

রায়পুরার চরমধুয়া এলাকার গ্রীণ এগ্রো ফামর্স এর মালিক আহসান সিকদার বলেন, এ বছর ৮৫টি গরু লালন পালন করেছি। কিন্তু দেশে করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে কোরবানির পশুর দাম ও বাজার পরিস্থিতি কী হয় এ নিয়ে শংকায় আছি।

রায়পুরা উপজেলার পূর্ব হরিপুর গ্রামের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য এক মাস আগে দুটি গরু কিনে পালন করে মোটাতাজা করছি। গো খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে গরুর বাড়তি খরচ হয়েছে। ন্যায্য দাম না পেলে লাভবান হওয়া যাবে না।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, নরসিংদী জেলায় ৫৫ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এ বছর৬ হাজার ৭ শত ৬২টি খামারে গরু ও মহিষসহ ৬০ হাজার ৯১০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত হয়েছে। এছাড়াও কৃষকসহ ব্যক্তিগতভাবে গৃহপালিত ১০ থেকে ১২ হাজার পশু রয়েছে। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার না করে দেশিয় খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করার জন্য কৃষক ও খামারীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাজারে দেশিয় গরুর চাহিদা থাকায় আশা করছি কৃষকরা লাভবান হবেন।