বেলাবতে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনে পাইলট প্রকল্প

০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:১৫ পিএম | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১৭ পিএম


বেলাবতে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনে পাইলট প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর বেলাবতে শুরু হয়েছে পরিবেশ বান্ধব কৌশলে নিরাপদ কৃষি ফসল উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প। এতে কীটনাশকের পরিবর্তে পোকা দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক ব্যয় না থাকায় কমবে সবজির উৎপাদন খরচ, পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ সবজির ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা।


নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচীর আওতায় দেশের দুটি উপজেলা ঢাকার সাভার ও নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে পরিবেশ বান্ধব কৌশলে নিরাপদ কৃষি ফসল উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। নিরাপদ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে মডেল ইউনিয়ন স্থাপন বাস্তবায়নের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দেড়শত কৃষক। এ প্রকল্পের আওতায় চাষ করা হচ্ছে, ফুলকপি, বেগুন, সিম, টমেটো, শসা, কাকরুল, করলা, ধুন্দল, কুমড়া, লালশাকসহ অন্যান্য সবজি। এতে ফসলের পোকা দমনে স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, লিউর, হলুদ ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক খরচ না থাকায় সবজির উৎপাদন খরচ কম হওয়া, কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসসহ উৎপাদিত স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ সবজির সঠিক বাজার মূল্য পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা।


সম্প্রতি সরেজমিন নিরাপদ সবজি উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এসময় কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজির সঠিক মূল্য প্রাপ্তি ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।


বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ভাটের চর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী, হামিদা বেগম ও আবুল কাশেম নরসিংদী টাইমসকে বলেন, কপি, বেগুন এবং লালশাক সবজি জাতীয় সবকিছুই আমাদের এখানে আছে। আমরা সবজাতের সবজি চাষ করি। আমরা চাইতেছি বিষমুক্ত সবজি কারণ বিষ প্রয়োগ করলে আমাদের সকলের ক্ষতি। বিষমুক্ত সবজি এবং নিরাপদ খাদ্য আমরা যাতে উৎপাদন করতে পারি, সে চেষ্টা করতেছি। এখানে আমরা একশ কৃষক মিলে চেষ্টা করতেছি এই প্রজেক্টে। যাতে সমস্ত বাংলাদেশে নিরাপদ সবজি খেতে পারে। সকলের যাতে স্বাস্থ্য ভাল থাকে। বিষমুক্ত সবজির দামও আমরা বেশি পাবো।


বেলাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উর রউফ খান নরসিংদী টাইমসকে বলেন, নিরাপদ কৃষি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩টি ব্লকে কৃষক দল গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচীর আওতায় ১৫০ জন কৃষক ৩০ হেক্টর জমিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি, ঢাকার সরেজমিন উইং এর পরিচালক চন্ডি দাস কুন্ডু নরসিংদী টাইমসকে বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি গ্রামকে নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করাসহ ১টি গ্রামকে নিরাপদ ফল গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমাদের মোটামুটি বলা চলে সেই সিলেকশানটা হয়ে গেছে। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা উপজেলার দুটি করে গ্রামকে নিরাপদ গ্রাম হিসেবে দেখবো। সেখানে আমরা এই রবি মৌসুমে যেসব ফসল হয় সেগুলো চাষ করতে বলেছি। দেশের দুটি পাইলট প্রকল্পের মধ্যে নরসিংদীর নারায়ণপুর ইউনিয়ন একটি।


এ প্রকল্পের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা সহ ২৫ নভেম্বর সোমবার সরেজমিন নিরাপদ সবজি উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এসময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান নরসিংদী টাইমসকে বলেন, বিষযুক্ত খাদ্যের ফলে মানুষ নানা ধরণের জটিল রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এখন মানুষ সচেতন হচ্ছে যে কারণে কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজির সঠিক মূল্য পাওয়া যাবে। উৎপাদিত নিরাপদ সবজি বাজারজাতকরণে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় হেলথি মার্কেট থাকবে। এসব মার্কেটের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।