শিবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৯ পিএম | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৪ পিএম


শিবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

শেখ মানিক:

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ৩৪নং মির্জাকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষক আরিফুল্লাহ ভূইয়ার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বরাবর বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে স্থাপিত হয়ে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। ইতোপূর্বে বিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তিন শতাধিক থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে এখন ১শ'র  নিচে এসে পৌঁছেছে। আগে প্রতি বছর ৪/৫ জন এ+ পেলেও বর্তমানে একজন ও পাচ্ছে না। প্রধান শিক্ষক আরিফুল্লাহ ভূইয়া ২০১৪ যোগদান করার পর থেকেই তার বিভিন্ন অনিয়ম, ছোট ছোট শিক্ষার্থীদেরকে মারধর, অভিভাবকদের সাথে অশোভন আচরণ, উপবৃত্তির টাকা যথাযথ ভাবে বিতরণ না করার কারণে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন না। ফলে বিদ্যালয়টি দিন দিন ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী একাধিক অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষক আরিফুল্লাহ ভূইয়া যোগদান করার পর থেকেই অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে। তার অনিয়ম দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়টি আজ ধ্বংসের দিকে। তার আগের প্রধান শিক্ষক থাকাকালিন সময় শিক্ষার মান ভাল ছিল। সেজন্য অনেক ছাত্রছাত্রী ছিল এখন অনেক কমে গেছে। ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি ইচ্ছুক এক ছাত্র কে ৭০ টাকার জন্য ভর্তি করেননি তিনি। সেই ছাত্র পরে অন্য স্কুলে চলে গেছে। উপবৃত্তির টাকা দিতে অনিয়ম করায় অভিভাবকগণ এই স্কুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে চায় না। এছাড়া  তিনি কখনো বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদেরকে পাঠদান করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোরর্শেদ ভূইয়া বলেন, আমি প্রধান শিক্ষককে বারবার সর্তক করে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল্লাহ ভূইয়ার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোঃ রুহুল ছগীর জানান, মির্জাকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান বলেন, আপনার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে জানতে পারলাম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান বলেন,  মির্জাকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোঃ রুহুল ছগীরকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।