রায়পুরায় প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা: একাধিক পরকীয়া ও বিকৃত যৌনতাই খুনের কারণ

২৩ জুন ২০১৯, ১০:০৬ পিএম | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৫ পিএম


রায়পুরায় প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা: একাধিক পরকীয়া ও বিকৃত যৌনতাই খুনের কারণ

তৌহিদুর রহমান:

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষার গোপীনাথপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী হ্যাপি আক্তার হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়া ও বিকৃত যৌনতার কারণেই খুন হয়েছেন হ্যাপি আক্তার। খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে এমন তথ্য দিয়েছেন আকরাম হোসেন নামে হ্যাপি আক্তারের এক পরকিয়া প্রেমিক।

পেশায় পল্লী চিকিৎসক আকরাম হোসেন একই উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের সাউদ পাড়ার পল্লী চিকিৎসক শাহজাহান মিয়ার ছেলে। আজ রোববার (২৩ জুন) বিকেলে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ সাদীর খাস কামরায় আকরামের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এর আগে গত শনিবার রাতে নিজ বাড়ি হতে তাকে আটক করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুরা থানার উপ-পরিদর্শক তারক চন্দ্র শীল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তের স্বার্থে কথিত অপর পরকীয়া প্রেমিকের নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আকরাম হোসেন জানায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী দুলাল মিয়ার স্ত্রী হ্যাপির সাথে বিবাহের পূর্বেই শুটকিকান্দি এলাকার এক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর হ্যাপির স্বামী বিদেশ চলে গেলে সাবেক প্রেমিকের সাথে হ্যাপির অবৈধ পরকীয়া ও শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে। তাদের শারারিক সম্পর্কের ফলে বেশ কয়েকবার গর্ভবতী হয়ে পড়েন হ্যাপি । অবৈধ গর্ভপাত করার জন্য হ্যাপি আক্তার স্মরনাপন্ন হতেন হাইরমারা এলাকার পল্লী চিকিৎসক সাউদ পাড়ার গ্রামের বাসিন্দা আকরামের কাছে।

সে সুবাধে আকরামের সাথেও তার ঘনিষ্ঠতা ও এক পর্যায়ে শারিরীক সম্পর্ক তৈরী হয়। একই সঙ্গে দুইজনের সাথে পরকীয়া চলার কিছুদিন পর পল্লী চিকিৎসক আকরামের সাথে নতুন সম্পর্কের কথা জেনে যায় কথিত অপর প্রেমিক। প্রথম দিকে এ নিয়ে আকরামের সাথে ওই প্রেমিকের বৈরিতা হলেও পরে তারা এক হয়ে যায়। অবৈধ এই সম্পর্ককে পুঁজি করে হ্যাপির সাথে আকরাম ও ওই প্রেমিক একই সময়ে একসঙ্গে বিকৃত যৌনতার পরিকল্পনা করে।

সে মোতাবেক ঘটনার দিন চলতি বছরের ২৪ মে রাতে আকরাম ও ওই প্রেমিক একসাথে হ্যাপির ঘরে প্রবেশ করে। এসময় দুইজনকে একসাথে দেখে চমকে উঠেন হ্যাপি। চমকে উঠলেও লজ্জার ভয়ে নিরুপায় হ্যাপির প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি। এ রাতে প্রথমে আকরাম হ্যাপির সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে অপর প্রেমিক আকরামকে ঘরের বাইরে অপেক্ষা করতে বলে সে ঘরে থেকে যায়। কিছুক্ষণ পর হ্যাপির আর্তচিৎকার শুনে পুণরায় ঘরে গিয়ে দেখতে পায় দেখতে পায় হ্যাপি মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর আকরাম ও ওই প্রেমিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক তারক চন্দ্র শীল জানান, জোরপূর্বক বিকৃত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিল এ দুজন। জোরজবর দস্তির কারণে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে হ্যাপির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। জবানবন্দি শেষে আকরামকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন আদালত। উল্লেখ্য গত মে মাসের ২৫ তারিখ রায়পুরার নিলক্ষার গোপীনাথপুরে নিজ বসত ঘর থেকে হ্যাপি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে রায়পুরা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হ্যাপি আক্তারের শশুর বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।



এই বিভাগের আরও