রায়পুরায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বজনদের অভিযোগ হত্যা  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৪১ পিএম | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০১ পিএম


রায়পুরায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বজনদের অভিযোগ হত্যা  

রায়পুরা প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরায় আরজিনা বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ আরজিনাকে শারিরীক নির্যাতন করে হত্যা শেষে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ উঠেছে স্বামী জীবন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে।

গত শনিবার দিবাগত রাতে মহেষপুর গ্রামে গৃহবধূর স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১১টায় ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেন।

 

নিহত ওই গৃহবধূ রায়পুরা ইউনিয়নের আশরাফপুর গ্রামের মদনের বাড়ির জিল্লাহ মিয়ার মেয়ে। নিহতের স্বামী জীবন মিয়া মহেষপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের মোঃ মালো হোসেন ওরফে (মাইল্লা) মিয়ার ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও স্বজনরা বাড়ি ঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টায় ওই গৃহবধূর স্বজনরা স্বামীর ঘরে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে আরজিনা বেগমের লাশ ঝুলন্ত থাকার খবর পান। পরে নিহতের স্বজনরা রায়পুরা থানা পুলিশকে খবর দেয়। ৮ মাস আগে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় আরজিনা বেগম ও পাশের গ্রামের মোঃ জীবন মিয়ার। বিয়ের কয়েক দিন যেতে না যেতেই ওই গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিক নির্যাতন চালাতো স্বামী।

নিহতের মা নাজমা বেগম বলেন, 'গতকাল বিকেলে মেয়ে ও জামাইকে আমাদের বাড়িতে আসার জন্য তাদের বাড়ি গিয়ে দাওয়াত দেই। এসময় মেয়েকে আমার বাড়িতে দিবে না বলে তখনই মারধর শুরু করে স্বামী। মেয়েকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাড়িতে আসার পথেই জানতে পারি মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরে বসবাস করে আসছি। বিয়ের পর থেকে জীবন বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য মারধর করতো। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দুটো মোবাইল ফোন ও কিছু টাকা দেয়া হয়েছিল। তবুও মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।

নিহতের ভাই খাজা বলেন, 'বোন আমার সাথে প্রায়ই বলতো জীবন পরকীয়া প্রেমে আসক্ত ছিলো। বিয়ের পর আমিও বোন মিলে ৫-৭ মেয়ের সাথে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ভেঙেছি। কোনো মতেই তাকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে ফেরানো যাচ্ছিল না, হত্যার হুমকি দিতো। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।'

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।