পলাশে ব্যবসায়ীর কানে বিএনপি নেতার কামড়: মিথ্যা দাবি বিএনপির, বাদীর প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ এএম


পলাশে ব্যবসায়ীর কানে বিএনপি নেতার কামড়: মিথ্যা দাবি বিএনপির, বাদীর প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর পলাশে সাখাওয়াত হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ীর কানে বিএনপি নেতার কামড়ের ঘটনায় করা মামলার বাদী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ঘোড়াশাল পৌরসভার মিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সজিব।

এদিকে কান কামড়ে আহতের ঘটনা মিথ্যা বলে দাবি করেছেন পলাশ উপজেলা বিএনপি। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানান পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা। এসময় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদী সজিবের অভিযোগ, তার ব্যবসায়িক পার্টনার বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনকে কান কামড়ে ও মারধর করে আহত করেন ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া। এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করার পর থেকে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। পরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। মামলার কারণেই এ আগুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি তার। আগুনে পালিত বিদেশি পাখি, আসবাবপত্র, বই, দলীয় ছবি পুড়ে গেছে।

এদিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন নামের বালু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের পাশাপাশি কামড় দিয়ে কান জখমের ঘটনা মিথ্যা দাবি করেছে পৌর বিএনপি।

পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগ। এই যুগের যে কার্যক্রম, সন্ত্রাসী কার্যক্রম সব আপনারা জানেন। দা, ছুরি, গুলি অনেক কিছু হতে পারতো, কিছুই নেই। কানে কামড় দিয়েছে! অর্থাৎ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে, বিগত কিছুদিন আগে একটি ঘটনা ঘটেছিল, ঐটার ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে কানে কামড়কে তারা ভাইরাল করার জন্য, মিডিয়াকে প্রচার করার জন্য, মানুষের মনে বিভ্রান্তি করার জন্য, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সেই মিথ্যা সংবাদটি ছাপিয়েছিল।"

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেসার্স সজীব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ সজীব মিয়া বাদী হয়ে কান কামড়ের ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করে আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ সহ ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।

​মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী সজীব মিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ "টিকে খান" এর বালু, ইট ও রড সরবরাহের কাজ পেয়ে সাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়াসহ কাজের জন্য নিয়োগ করেন।  ১৩ জুলাই বিকালে ঘোড়াশালের টেকপাড়াস্থ বাংলাদেশ জুট মিলস এর ভেতরে নদীর পাড়ে ড্রেজার মেশিন সেটিং করার সময় একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক, লাঠি ও পিস্তল নিয়ে ঘটনাস্থলে চড়াও হয়।

এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।



এই বিভাগের আরও