আলোকবালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

২৩ মে ২০২৪, ০২:৫০ পিএম | আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম


আলোকবালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালীতে সরকারী প্রকল্পের বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৩ জন গুলি ও টেটাবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে আলোকবালীর খোদাদিলা গ্রামে যুবলীগ কর্মী জাকির হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদিন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, জাকির গ্রুপের নেপথ্যে রয়েছেন ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কাদির মিয়া এবং জয়নাল আবেদিন গ্রুপে রয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দীপু, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ফাহিম।

আহতদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে, এরা হলেন আব্দুস সাত্তার মিয়ার ছেলে কুতুব উদ্দিন (৩৫), খোদাদিলা গ্রামের হক মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ (১৬), ফিরোজ মিয়ার ছেলে তৈয়ব মিয়া (১৮)। এদের মধ্যে কুতুব উদ্দিন হচ্ছে বিএনপি নেতা জয়নালের সমর্থক এবং তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে, বাকি দুই জন কোন গ্রুপের তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া অন্তত আরও ৭ জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে, তবে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যান্য আহতরা সদরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেঘনা নদী ও তার শাখা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতে দুই মাস আগে নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী এসব বালু নদীর পাশে রাখার কথা হলেও প্রভাব বিস্তার করে আলোকবালী ইউনিয়নের সাতপড়া ও খোদাদিলা সহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলী জমি, পুকুর, ডোবা সহ বিভিন্ন স্থান ভরাট করা হচ্ছে।

আর এসব ভরাট করা বালুর জন্য শতাংশ জমি প্রতি ভরাটের জন্য জয়নাল আবেদিন ও ইউপি চেয়ারম্যান গ্রুপকে ১০-১৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। ফলে, জাকির গ্রুপ তাদের ভাগ না পাওয়া ও পূর্ব আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনায় জড়ায়। তাছাড়াও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাকির গ্রুপ এলাকার বাইরে ছিল। পুনরায় গ্রুপটি এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে আজ বৃহস্প্রতিবার ভোর ৪ টার দিকে উভয় গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।

 

আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আসাদ উল্লাহ বলেন, "যুবলীগ কর্মী জাকির সহ আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা-কর্মীকে বিএনপির ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব কাইয়ুম ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদিনের লোকজন  অত্যাচার ও নির্যাতন করে ৪ বছর ধরে বাড়ীঘর ছাড়া রেখেছে। তারা জোরপূর্বক নিরীহ মানুষের বাড়ীতে সরকারী প্রকল্পের বালু দিয়ে ভরাট করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মূলত এলাকার নিরীহ মানুষ তাদের অত্যাচারের প্রতিবাদ থেকে এ সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। তবে, এ ঘটনায় আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। এখানে চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর লোকজন ও বিএনপির লোকজন দ্বন্দ্ব জড়িয়েছে।"

তবে, ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমান ফাহিম বলেন, পেশাদার ডাকাত জাকির ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাংচুরসহ লোকজনকে আহত করেছে।

আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদিন বলেন, "জাকির ডাকাতের নির্দেশে ও খোদাদিলা গ্রামের মালেক মেম্বারের ছেলে আল আমিনের অর্থায়নে নিরীহ এলাকাবাসীর উপর হামলা করেছে। আমরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে আমাদের লোকজনকে গুলি করে আহত করা হয়। সরকারী বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই, সরকারের লোকজনই নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার ধান্ধা। এটা রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্ব নয়।"

 

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আর এম ও) মোহাম্মদ মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, "গুলি ও টেটাবিদ্ধ অবস্থায় ৭ জনকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বাকি ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।"

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। জাকির গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়। খোদাদিলা গ্রামটি অনেক বড়। এক দিকে ধাওয়া করলে অন্য দিক দিয়ে পালাচ্ছে। খবর পেয়ে ভোর থেকে আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।



এই বিভাগের আরও