নরসিংদীতে গৃহবধূ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

০৫ জুন ২০২১, ০১:৪৬ পিএম | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২১, ০৬:৫৯ পিএম


নরসিংদীতে গৃহবধূ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর মাধবদীর আনন্দীতে স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতনে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ কল্পনা রানী বাসফোঁড় (২৫) হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ জুন) দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলা মোড়ে প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন ও নিহত গৃহবধূর স্বজনেরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা কল্পনা রানী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার সুজান নগর সুইপার কলোনীর মনালাল বাসফোঁড়ের মেয়ে কল্পনা রানী বাসফোঁড়কে নরসিংদীর মাধবদীর আনন্দী হরিজন কলোনীর রাজু বাসফোঁড় এর নিকট বিয়ে দেয়া হয়। তাদের দেড় বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। গত ৭ মে যৌতুকের টাকার দাবিতে গৃহবধূ কল্পনা রানী বাসফোঁড়কে নির্যাতন করে তার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। এসময় কল্পনা রানী অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করার একদিন পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মাধবদী থানায় হত্যার অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ তদন্তের পর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা গ্রহণ করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত কল্পনা রানীর বাবা মনালাল বাসফোঁড়, মা রিতা রানী হরিজন, মামী পূজা রানী বাসফোঁড়, সিলেট হরিজন গোষ্ঠীর সভাপতি সুজন লাল, বিবাড়িয়া শাখার সভাপতি রাজেস হরিজন, কুমিল্লা শাখার সভাপতি জামাল হরিজন, সাধারণ সম্পাদক নিমাই হরিজন, মৌলভীবাজার শাখার সভাপতি গোলাপ হরিজন, কুলাউড়া শাখার সভাপতি লস্কর বাসফোঁড় প্রমুখ।

যোগাযোগ করা হলে মাধবদী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে কল্পনা রানী নিজের শরীরে আগুন দেয়। একদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন নিহতের বাবা মনালাল বাসফোঁড়। পরে নিহতের স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৪ আসামী আদালতে আত্মসমর্পন করে। আদালত দুইজনকে জামিন প্রদান করেন এবং স্বামী ও শ্বশুরকে জেলহাজতে পাঠান।