চাচী কর্তৃক ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০২ এএম


চাচী কর্তৃক ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নরসিংদীতে চাচী কর্তৃক ২ মাসের শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত নারী লতা আক্তারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মূল অভিযুক্তের স্বামী ও পিতা সহ মোট দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । 

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বলেন,নরসিংদী প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাধবদী থানায় মামলা করেন। 

এর আগে, ১৩ জুলাই থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায় একজন নারী ছোট এক শিশুর পা মুচড়ে দিচ্ছে। এটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করা হয়। বলা হয় পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। যদিও শিশুটির পরিবার বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে কিন্তু পা ভেঙে ফেলার মত কোন ঘটনা তৈরি হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে, নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের   পাইকারদি গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়ার সন্তান। অপরদিকে মামলার এজহার অনুসারে অভিযুক্তরা হলো - শিশুর চাচি লতা বেগম (৩২),লতার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং লতার বাবা অর্থাৎ কাউসারের শ্বশুর আলমাছ মিয়া (৬০) । 

মামলার এজহারে বলা হয় , জন্মের পর থেকেই শিশুটি বিভিন্ন মেয়াদে হাসপাতালে ছিল অসুস্থ থাকায়। প্রায়ই ঘরে কান্না করত। বিষয়টি শিশুর মায়ের সন্দেহ হলে গোপনে ভিডিও ধারণের পন্থা অবলম্বন করেন । এছাড়া, তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ থাকত প্রায়ই । 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির চাচি  রত্না  বেগম ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। পরে শিশুটির মা কান্না শুনে দৌড়ে এসে দেখেন অস্বাভাবিকভাবে শিশুটা কান্না করছেন।  

 

এব্যাপারে শিশুটির পিতা জহিরুল হক বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে আমার শিশু সন্তানকে আমার বড় ভাই এর স্ত্রী  রত্না  বেগম অগোচরে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী গত ১১ জুলাই বিকেলে ঘরের ভিতর একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও অন করে রেখে চলে যায়। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী  রত্না বেগম আমার শিশুটির একটি পায়ে সজোরে মুচড়ে দেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙ্গে নি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার বিষয়েও রাজি নয় তারা। 

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং ঘটনা সম্পর্কে জানতে শিশুটির মা ও বাবার সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙ্গেনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  মূল অভিযুক্ত লতা বেগম পলাতক থাকলেও তার স্বামী  কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং লতার বাবা অর্থাৎ কাউসারের শ্বশুর আলমাছ মিয়া (৬০) কে গ্রেফতার করেছি আমরা । 



এই বিভাগের আরও