মাধবদীতে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

২১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:১২ পিএম | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫০ পিএম


মাধবদীতে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের গচ্ছিত রাখা ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে মাধবদী বাজার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাধবদী বাজার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শফিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেছেন পৌর মেয়র।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, শিবু নাথ ও ভোলা নাথ নামে মাধবদীর দুই ব্যবসায়ী বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ও কাপড় বাবদ প্রায় ১৮ কোটি টাকা দেনা করে দেউলিয়া হয়ে যান। পরে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাধবদী বাজার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মাধবদী পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক অভিযুক্ত ব্যবসায়ি শিবু নাথ ও ভোলা নাথের পক্ষে ৪ কোটি টাকা মার্চেন্ট এসোসিয়েশনকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত মতে মেয়র মোশাররফ হোসেন দেউলিয়া হওয়া শিবু নাথ ও ভোলা নাথের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মজুদ থাকা ৮২ লাখ টাকার কাপড় বিক্রি করেন। পরে কাপড় বিক্রির ৮২ লাখ টাকা প্রাপ্তির বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করলেও মার্চেন্ট এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষকে টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে সমুদয় টাকা মেয়র মোশাররফ তার কাছেই রেখে দেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় উক্ত টাকা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মেয়রকে তাগিদ দিলে তিনি দেই দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। পরবর্তীতে পাওনাদার ব্যবসায়ীদের চাপে এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ মেয়রকে টাকা পরিশোধের জন্য চিঠি পাঠায়। চিঠির প্রেক্ষিতে মেয়র মোশাররফ ৩০ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে টাকা পরিশোধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু  সময়মতো সে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষকে অশ্রাব্য ভাষাায় গালিগালাজ করেন। পরে গত ৮ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখে জরুরী সভা ডেকে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও এসোসিয়েশনে তার সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাতকারে মাধবদী পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিক তার কাছে মাধবদী বাজারের ব্যবসায়িদের গচ্ছিত ৮২ লাখ টাকা থাকার কথা অস্বীকার করেন এবং একই সাথে মাধবদী বাজার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনকে অবৈধ সংগঠন বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদককে কটাক্ষ করে বক্তব্য প্রদান করেন যা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এসোসিয়েশন ও মাধবদী বাজারের ব্যবসায়িরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

মাধবদী বাজার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সফিউদ্দিন মেয়র মোশাররফ হোসন এর এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতাউত্তর প্রতিষ্ঠিত মাধবদীর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন মাধবদী বাজার মাার্চেন্ট এসোসিয়েশন ব্যবসায়িদের আমানতদারি বজায় রেখে তাদের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্র্রতি মেয়র মোশাররফ কর্তৃক টাকা আাত্মসাতের বিষয়টি এসোসিয়েশনে ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুলেছে। একই সাথে উক্ত সংগঠনকে অবৈধ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদককে কটাক্ষের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মাধবদী পৌর মেয়র মো: মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক বলেন, মাধবদী বাজার মাার্চেন্ট এসোসিয়েশন এর ব্যবসায়ীদের কোন টাকা পয়সা আমার কাছে গচ্ছিত নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে। মাধবদী বাজার মাার্চেন্ট এসোসিয়েশনের কমিটি যেহেতু মেয়াদোর্ত্তীন্ন তাই ওই কমিটিকে অবৈধ বলেছি।