নজরপুরের পালোয়ান ১৩ লাখ ও শেরখান ১২ লাখ টাকায় বিক্রির আশা

০৪ জুলাই ২০২১, ০৯:১২ পিএম | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০১:১৪ এএম


নজরপুরের পালোয়ান ১৩ লাখ ও শেরখান ১২ লাখ টাকায় বিক্রির আশা
৩২ মণ ওজনের পালোয়ান

তৌহিদুর রহমান:

নরসিংদীর চরাঞ্চলে শখের বশে লালন পালন করা দুই গরু পালোয়ানকে ১৩ লাখ ও শেরখানকে ১২ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন মালিক আওলাদ হোসেন অলি। পালোয়ানের বর্তমান ওজন প্রায় ৩২ মণ এবং শেরখানের ওজন ২৮ মণ। সদর উপজেলার চরাঞ্চল নজরপুর গ্রামের সৌখিন খামারী আওলাদ হোসেন অলি আসন্ন কোরবানির হাটে তুলবেন আকর্ষণীয় এই দুটি গরু। তবে তাঁর বাড়ি থেকে যদি কেউ কোরবানির জন্য এই গরু দুটি কিনেন তবে বিশেষ ছাড় পাবেন ক্রেতারা।

গরু দুটির মালিক আওলাদ হোসেন ও স্থানীয়রা জানান, আওলাদ হোসেন নরসিংদীর অন্যতম বড় পশুর হাট পুটিয়া বাজার থেকে দুই বছর আগে কিনেন ব্রাহমা জাতের একটি ষাড় গরু ও ৭ মাস আগে একই হাট থেকে কিনেন ফ্রিজিয়ান জাতের আরও একটি ষাড় গরু। আদর করে দুই বছর আগে কেনা গরুটির নাম দেয়া হয় শেরখান ও পরে কেনা অপর গরুটির নাম দেয়া হয় পালোয়ান। চরাঞ্চলের মাঠের সবুজ ঘাস খাওয়ানোর পাশাপাশি দেশিয় খাবার খৈইল, কুড়া, সয়াবিন, চাউলের খুদ, ছোলা, ভুষি ও খড় খাইয়ে লালন পালন করা হয়েছে পালোয়ান ও শেরখানকে। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক ও পশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি। খামারী আওলাদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা নিজে অত্যন্ত যত্নে পালন করেন গরু দুটি। দুই গরুর পেছনে অনেক টাকা, সময় ও শ্রম দিতে হয়েছে তাদের। আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে গরুর প্রতি আরও যত্নশীল হয়ে উঠেছেন খামারী আওলাদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। 

দীর্ঘদিন ধরে লালন পালন করা ও আকর্ষণীয় হওয়ায় বিশাল আকৃতির গরু দুটি দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। কেনার জন্য দেখতে আসছেন ক্রেতারাও, কষাকষি করছেন দাম। কালোর মাঝে অল্প সাদা রংয়ের পালোয়ানের বর্তমান ওজন প্রায় ৩২ মণ, উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট এবং সাদার মাঝে অল্প কালো রংয়ের শেরখানের ওজন ২৮ মণ, উচ্চতা ৬ ফুট।

খামারী আওলাদ হোসেন অলি বলেন, আমি নিজে একা উদ্যোগী হয়ে গরু দুটি লালন পালন করছি। বাইরের কোন লোক দিয়ে নয়, নিজের মতো করে অত্যন্ত যত্নে লালন পালন করছি। কোরবানি ঈদকে ঘিরে চেষ্টা করবো বাড়ি থেকেই পালোয়ান ও শেরখানকে বিক্রির জন্য। বাড়ি থেকে যারা কিনবেন তাদের বিশেষ ছাড় দেয়া হবে। গরু দুটির দাম পালোয়ান ১৩ লাখ ও শেরখান ১২ লাখ টাকা হাঁকছি। যদিও বাজার দর অনুযায়ী দাম কমবেশি হতে পারে। আমি যদি এই গরু দুটি বিক্রি করে লাভবান হতে পারি তাহলে হয়ত অন্যরা এমন গরু পালনে আগ্রহী হবে।

নরসিংদী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আওলাদ হোসেন অলি একজন সৌখিন খামারি, তিনি প্রতি বছরই এমন বড় ধরনের গরু প্রতিপালন করে থাকেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহমা জাতের গরু দুটি লালন পালনের জন্য কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি দেশিয় বিভিন্ন খাবারের মিশ্রন খাওয়ানোর জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। তিনি সেমতে কোন প্রকার ক্ষতিকর ওষধ ছাড়াই গরু দুটি বড় করেছেন। আমার জানামতে জেলায় এই দুটি গরু এবার কোরবানির জন্য সবচেয়ে বড় গরু। দেশিয় পদ্ধতিতে পালন করা এই গরু দুটির মাংসও সুস্বাদু হবে। 



এই বিভাগের আরও