নরসিংদীতে কোরবানির পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

০২ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৩৭ পিএম | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৪ এএম


নরসিংদীতে কোরবানির পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহুর্তে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নরসিংদী জেলার খামারিরা। প্রতি বছরের মতো এবারো খামারীরা সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করেছেন। মানব দেহের জন্য তিকর ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা এসব পশু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশাবাদী তারা।
খামারগুলোতে ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে সামনে রেখে জেলার ছয়টি উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার খামারী দেশীয় পদ্ধতিতে ২৫ হাজারের বেশি পশু মোটাতাজা করেছেন। দেশের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ৬ মাস ও ১ বছর আগে থেকে গবাদি পশু লালন পালন শুরু করেন খামারীরা। কোরবানির ঈদকে ঘিরে অসাধু গরু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করলেও এখানকার খামার গুলোতে দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে এসব গরু ও মহিষ। দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করায় বাজারে এই অঞ্চলের গরু ও মহিষের চাহিদাও বেশি।

খামারিরা জানান, প্রতি বছরই ঈদ এলে গরু বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন তারা। ছোট বড় খামারের পাশাপাশি কৃষকরাও ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত তিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট পরিহার করে ঘাস খড়ের পাশাপাশি খৈল, কুড়া, ভূষি খাদ্য হিসেবে খাওয়ানোর মাধ্যমে মোটাতাজা করা হয়েছে এসব গরু। বাজারে দেশিয় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই ঈদে লাভজনক হবেন বলে আশাবাদী তারা।


রায়পুরার চরাঞ্চলের চরমধুয়া গ্রামের গ্রীণ এগ্রো ফার্মস এর মালিক আহসান শিকদার বলেন, এবার আমাদের খামারে দেশিয় জাতের ৫০টি গরু পালন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে এসব গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। দেশিয় গরুর চাহিদা থাকায় এরমধ্যে খামার পরিদর্শনে আসছেন ক্রেতারা। অনেকে খামার থেকেই গরু কিনে নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।


শিবপুর উপজেলার মুন্সেফেরচরের গরু খামারি কিবরিয়া গাজী বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করায় এই অঞ্চলের গরুর চাহিদা অনেক বেশি। ঈদের আর বেশি দিন বাকি না থাকায় গরুর যত্নে এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। আমার খামারে প্রায় একশত গরু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।


রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া গ্রামের গরু খামারি মুজিবর শিকদার বলেন, আমার খামারে ৫০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গরু সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গরুকে কাঁচা ঘাস, খড়, তিলের খৈল, ছোলার খৈল, মসুুরী ডালের খৈল, মটরসহ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়েছে। এবার ঈদে বিদেশী গরু পুরোপুরি আমদানী বন্ধ করা গেলে লাভবান হবো।


জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জেলার ছয়টি উপজেলায় ছোট-বড় ৫ হাজার ২ শত ৭১ জন খামারী দেশীয় পদ্ধতিতে ২৪ হাজার ৩শত ২৬টি পশু মোটাতাজা করেছেন। এরমধ্যে নরসিংদী সদরে সর্বমোট ৩,৬০৭টি, রায়পুরায় ২,৬৩৮টি, বেলাব ৫,১৬০টি, পলাশ ৪,৩৮২টি, শিবপুর ৩,১৬৮টি ও মনোহরদী ৫,৩৭১টি সম্ভাব্য পশু রয়েছে।

পশু মোটাতাজাকরণে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার বন্ধে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।