২০১৯ সালে বিজ্ঞানীদের অদ্ভুত গবেষণা

২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:১৭ পিএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১, ০৫:৫০ এএম


২০১৯ সালে বিজ্ঞানীদের অদ্ভুত গবেষণা

টাইমস তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

বিশ্বের বিজ্ঞানীরা যে সবসময় কাটখোট্টা বিষয় নিয়েই পড়ে থাকেন তা নয়। অনেক অদ্ভুত কিংবা বিদঘুটে বিষয়েও গবেষণা চালান তারা। অনেকের কাছে তা কৌতুকপূর্ণও মনে হতে পারে। ২০১৯ সালে বিজ্ঞানের এমনই কিছু আজব গবেষণার কথা জেনে নিন।

(এক). লোচ নেস দৈত্য: জনপ্রিয় কাহিনী অনুসারে, কিংবদন্তি লোচ নেস দৈত্যটি এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি গভীর স্কটিশ হ্রদে বাস করেছে বলে বিশ্বাস অনেকের। তার কল্পিত দেহটি অনেকটা ডাইনোসরের মতো। এই লচ নেসের খোঁজ চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জেনেটিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তীর্ণ হ্রদ থেকে আড়াই শ বারেরও বেশি জলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি নমুনার মধ্যে ভাসমান ডিএনএ'র বিট পরীক্ষা করেন। এই জরিপে মাছ, হরিণ, শূকর, ব্যাকটেরিয়া, মানুষ এবং হ্রদের আশেপাশের প্রায় ৩ হাজার এরও বেশি প্রজাতির জিনগত চিহ্নের সন্ধান মিলেছে। তবে দলটি দৈত্যাকৃতির সরীসৃপ বা জলজ ডাইনোসর, এমনকি বিশাল স্টারজন বা ক্যাটফিশের কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

(দুই). স্টিফেন হকিংয়ের ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা: খ্যাতিমান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং একবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ব্ল্যাক হোলগুলো কেবল ব্রহ্মাণ্ডের ভাসমান বস্তুগুলিকেই তাদের গভীরতায় ফেলে দেয় না, মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের কণা নির্গত করে। তিনি বলেছিলেন এই কণাগুলি ধীরে ধীরে তাদের ভর ও শক্তি ছড়িয়ে দেয়। অবশেষে শক্তি ছড়িয়ে দিতে দিতে তারা অদৃশ্য হয়ে যায়। পদার্থবিদরা কখনও ভাবেননি তারা এটি প্রমাণ করতে পারবেন। এই বছর, শেষ পর্যন্ত গবেষকদের একটি দল পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় এই অধরা হকিং রেডিয়েশনকে চিহ্নিত করেছেন। দলটি গবেষণাগারে একটি ব্ল্যাকহোলের মডেল তৈরি করেন। অত্যন্ত ঠাণ্ডা গ্যাসের স্রোত থেকে একটি জলপ্রপাত তৈরি করা হয়েছে। এর চারদিকে একটি অদৃশ্য সীমানা ছিল যার বাইরে কিছুই যেতে পারবে না। এই জলপ্রপাতে কোয়ান্টাম শব্দতরঙ্গ প্রয়োগ করা হয়। এরপর আরো নানা পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত স্টিফেন হকিংয়ের ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণিত হয়।

(তিন). একটি কণা যা কিনা আসলে কণা নয়: এই বছর, পদার্থবিজ্ঞানীরা এমন একটি কণার সন্ধান পেয়েছেন যা কিনা আসলে কোনো কণা নয়। এই কণাকে বলা হচ্ছে 'অড্ডেরন'। ইলেক্ট্রন এবং প্রোটনের মতো কণাগুলো বহু সময় ধরে অবস্থান করে। তবে ওড্ডেরন এমন এক 'আপাত কণা' যা ঝলকানি দিয়ে তার অস্বিত্বের প্রমাণ দেয়, আবার হারিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা প্রথমে ১৯৭০ এর দশকে অড্ডেরনের অস্তিত্বের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন যে, প্রোটন এবং অ্যান্টিপ্রোটনের সংঘর্ষের সময় কোয়ার্ক নামক এক ধরনের কিশোর কণার সৃষ্টি হলে এদের দেখা মেলে।

(চার). ভ্যাম্পায়ার গাছ: নিউজিল্যান্ডের একটি গভীর জঙ্গলে রয়েছে এক ভ্যাম্পায়ার গাছ। এর চারদিকে শিকড়গুলো ভীতিকরভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। তারা পানি এবং পুষ্টি গ্রহণ কর মাটি থেকে। বিজ্ঞানীরা নিউজিল্যান্ডের ওয়েস্ট অকল্যান্ডে পর্বতারোহণের সময় এই বোটানিকাল ভ্যাম্পায়ারে হোঁচট খেয়েছিলেন। তাদের চারপাশে শত শত কৌরি গাছ ছিল। এই কৌরি গাছগুলো ১৬৫ ফুট (৫০ মিটার) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। দিনের বেলায় বিশাল গাছগুলো শিকড় থেকে পাতায় পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। রাতে বেঁটে আকৃতির ভ্যাম্পায়ার গাছটি প্রতিবেশীদের শিকড় থেকে পানি ও পুষ্টি সংগ্রহ করে।

(পাঁচ). মাংসাশী গাছ: কলস উদ্ভিদ নামটা যেমন সুন্দর দেখতেও তেমন সুন্দর। তবে পোকামাকড়দের কাছে সে এক আতঙ্কের নাম। ছোটখাটো পোকাদের ভুলিয়ে ফাঁদে ফেলতে পারে। এটি এক ধরনের মাংসাশী উদ্ভিদ। এরা অসাবধানী পোকামাকড়কে তার গোলাকৃতি পাতায় আটকে ফেলে। এই পোকাই তাদের খাবার হয়ে যায়। এ বছরের শুরুর দিকে সালামান্ডার নামের প্রাণী ধরতে কলস গাছগুলো তার পাতাকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেয়। এ দৃশ্য দেখে বিজ্ঞানীরা হতবাক হয়েছিলেন। গবেষকদের একটি দল অন্টারিওর অ্যালগনকুইন প্রাদেশিক পার্কে কয়েক শতাধিক কলস উদ্ভিদ নমুনা তৈরি করে দেখতে পান যে, প্রায় ২০ শতাংশ গাছে সালামান্ডার রয়েছে। আবার অনেকগুলো উদ্ভিদ একইসাথে বেশ কয়েকটিকে ধরে নিয়েছে। (সূত্র: লাইভ সায়েন্স)