বিবাহ বিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে সিদ্দিক-মিমের; তবুও আশাবাদী সিদ্দিক

১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:৫৩ পিএম | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৮ এএম


বিবাহ বিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে সিদ্দিক-মিমের; তবুও আশাবাদী সিদ্দিক
সিদ্দিকুর রহমান ও মারিয়া মিম

টাইমস ডেস্ক :


ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান ও মডেল-অভিনেত্রী মারিয়া মিম। এ সংসারে তাদের একটি ৬ বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে এই দম্পতির। এ তথ্য জানিয়েছেন মিম। তবে সিদ্দিক চান মিমের সঙ্গে সংসার করতে। সবকিছুর আগে নিজের পরিবার বিষয়টি মিম বুঝবে বলে এখনো আশাবাদী সিদ্দিক।

অনেক কারণে একজন আরেকজনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। মিম চান শোবিজে কাজ করতে। কিন্তু সিদ্দিকের এতে আপত্তি। মিমকে নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন তিনি। মিমের ভাষায়, কিছুদিন আগে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার কথা ছিল। পরিচালক জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন পর শুটিং হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। হঠাৎ জানতে পারি, আমার পরিবর্তে অন্য এক মডেলকে নেওয়া হয়েছে। এই বিজ্ঞাপনের নির্মাতা রানা মাসুদকে সিদ্দিক প্রভাবিত করেছে, যাতে আমাকে বাদ দেওয়া হয়।’

বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘ডিভোর্সের সিদ্ধান্তের পেছনে একটা দুটো তো নয়, অনেক কারণ আছে। এখন ডিসিশন ফাইনাল। আমাদের পরিবারও ব্যাপারটা জেনে গেছে। বিশেষ করে আমার পরিবার এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। আমার জীবন। আমি যেভাবে ভালো থাকব সেটাই তারা মেনে নেবেন।’

২০১২ সালের ২৪ মে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্পেনের নাগরিক মারিয়া মিমকে বিয়ে করেন সিদ্দিক। ২০১৩ সালের ২৫ জুন তাদের সংসার আলো করে আসে পুত্রসন্তান আরশ হোসেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। বাধ্য হয়ে তিন মাস ধরে আলাদা থাকছেন মিম-সিদ্দিক। পুত্র আরশ এখন সিদ্দিকের সঙ্গে থাকছে।

এ বিষয়ে সিদ্দিক বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো গণমাধ্যমে দেখে আমি খুব অবাক হয়েছি। বিভিন্ন সংসারেই এমন অশান্তি হয় আবার মিটেও যায়। আমাদেরও তেমনই হয়েছে। আমি জানি না কার প্ররোচণায় মিম গণমাধ্যমে এসব কথা বলছে। স্বামী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে মিমের মিডিয়ায় কাজের চেয়ে সংসারে মনোযোগী হওয়াটা বেশি দরকার। আমার তো আর্থিক সংকট নেই যে আমার স্ত্রীকে কাজ করে সংসার চালাতে হবে। আমাদের স্বপ্ন একটাই সন্তানটাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

'গ্রাজুয়েট' খ্যাত এই অভিনেতা আরও বলেন, আমাদের ছেলের বয়স এখন ৬ বছর। এটা তার স্কুলে যাওয়ার বয়স। এই সময়ে আমরা দুজনই যদি মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তাহলে আমাদের একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎটা নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে মিমকে বলেছিলাম মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে। এর বেশি কিছু না। ডিভোর্স দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি আমাদের মধ্যে। আমাদের সম্পর্কটা কেমন এটা মিডিয়ার সবাই জানে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় বাড়ি গিয়ে আর ফিরে আসেনি মিম। ডিভোর্স দেওয়ার মতো কিছু হলে সেটাতো দুই পরিবারের সবাই বসে যেটা সঠিক মনে হয় সেটাই করবে। তবে সে যদি আমাকে ডিভোর্স দেয় সেটা তার ব্যাপার। ডিভোর্স দিয়ে কাজ করুক। তার আগে কোনোভাবেই কাজ করতে পারবে না। তবে আমি চাই, তার সঙ্গে সংসার করতে। সবকিছুর আগে নিজের পরিবার। এখন হয়তো মিম সেটা বুঝতে পারছে না। আমি আশা করি মিম বিষয়টি বুঝবে।

সিদ্দিক জানান, সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করা নিয়ে ঝামেলা হয় মিমের সাথে। নিষেধ করা সত্ত্বেও সে কাজটি করতে চায়। শেষে অবশ্য বিজ্ঞাপনটিতে তার কাজ করা হয়নি। এতেই হয়তো ক্ষোভে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিম।


বিভাগ : বিনোদন