যেভাবে ফাঁস হলো মাদ্রাসা শিক্ষকের ১২ ছাত্রী ধর্ষণ ঘটনা

০৪ জুলাই ২০১৯, ০৭:২৫ পিএম | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৭ পিএম


যেভাবে ফাঁস হলো মাদ্রাসা শিক্ষকের ১২ ছাত্রী ধর্ষণ ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০ এর অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার রেশ না কাটতেই  ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন মাদ্রাসা অধ্যক্ষ। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব ১১। গ্রেফতারকৃত অধ্যক্ষের নাম মাওলানা মো. আল আমিন। 

২০ এর অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সমৃদ্ধ সংবাদ র‌্যাব ১১ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে এক শিশু শিক্ষার্থী তা দেখে তার অভিভাবকের কাছে মাদ্রাসা শিক্ষকের এমন ঘটনার কথা জানায়।  

এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে.কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন জানান, কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া স্কুল শিক্ষকের ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন নিউজ ও ভিডিও আমরা আমাদের ফেসবুক পেইজে আপলোড করেছিলাম। এই নিউজ দেখে স্থানীয় একজন মহিলা যখন ফেসবুকে দেখছিলেন, তখন তার তৃতীয় শ্রেণী পড়–য়া মেয়ে এটি দেখে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে যে, স্কুলের ওই শিক্ষকের শাস্তি হলে আমাদের হুজুরের কেন শাস্তি হবে না? আমাদের হুজুরও তো আমাদের সাথে এমন করে। পরে শিশুটি তার মাকে বিস্তারিত জানালে শিশুটির মা র‌্যাব অফিসে এসে আমাদের কাছে অভিযোগ করেন যে, ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একাধিক ছাত্রীকে তার বাসায় পড়তে গেলে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করেছে।

তিনি জানান, এরপর র‌্যাব এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু ঐ শিক্ষার্থী নয় ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত অর্থাৎ এক বছর যাবৎ ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পর্যন্ত ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন ওই শিক্ষক আল আমিন। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিও করেছেন।

শামসের উদ্দিন আরো বলেন, অধ্যক্ষ আল আমিন মাদ্রাসার একটি রুমে তার পরিবার নিয়ে থাকতো এবং একটি অফিস কক্ষসহ কয়েকটি ক্লাস রুমে ছেলে মেয়েদেরকে পড়াতো। তার স্ত্রী একজন পর্দানশীল মহিলা, সে ভিতরের দিকে থাকতো, সামনে তেমন একটা আসতো না। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় পড়তে আসা ছাত্রীদেরকে ডেকে তার রুম ঝাড়– দেওয়া ও বিভিন্ন কৌশলে এনে রুমের ভেতর তাদেরকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করতো।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক জানান, এ সকল ঘটনার প্রমাণস্বরুপ আমরা তার মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার তল্লাশী করে প্রচুর পর্নোগ্রাফী ভিডিও পেয়েছি। কিছু কিছু পর্নোগ্রাফী সে নিজেও তৈরী করেছে। সে তার কাছে পড়তে আসা কোন ছাত্রীর ছবির মাথার অংশ পর্নোগ্রাফি ভিডিওর সাথে সংযুক্ত করে ছাত্রীদের ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক অধ্যক্ষ আল আমিন ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তবে তার দাবি তিনি আগে এমনটা ছিলেন না শয়তানের প্ররোচনায় পরে সে এমনটা করতেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অধ্যক্ষের শাস্তি ও মাদ্রাসা বন্ধের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড নামে একটি বেসরকারী স্কুলের ২০ জনেরও অধিক ছাত্রীকে ৪ বছর ধরে যৌন হয়রানীসহ ধর্ষণের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফুল ও প্রধান শিক্ষক জুলফিকার ওরফে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। এর রেশ না কাটতেই ১২ ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আল আমিন গ্রেপ্তার হলেন।


বিভাগ : বাংলাদেশ