ভোজ্যতেলের বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি

১২ মে ২০২২, ০৫:৩৮ পিএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২, ০৯:১৬ এএম


ভোজ্যতেলের বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:

দরের ঊর্ধ্বগতিতে সয়াবিনের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর ডাকে ভোজ্য তেল নিয়ে এক মতবিনিয়ম সভায় এসে তারা এই দাবি তোলেন।

ভোজ্য তেল আমদানিকারক এই ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। বরং বাজারকে বাজারের উপর ছেড়ে দিলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মহামারীর মধ্যে ভোজ্য তেলের বাজারে যে অস্থিরতার শুরু হয়েছিল, তিন মাস আগে ইউক্রেইন যুদ্ধের পর তা আরও চড়তে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে ভোজ্য তেল আমদানি, পরিশোধন, বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট ৩০ শতাংশ তুলে নেয় সরকার। আমদানি পর্যায়ে ৫ ‍শতাংশ ভ্যাটই কেবল এখন রয়েছে। এরপর ব্যবসায়ীরা দাম আরও বাড়াতে চাইলেও সরকার সায় দেয়নি। এর মধ্যেই এ মাসের শুরুতে ঈদের আগে খুচরা বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় সয়াবিন তেল।

তারপর সরকার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪০ টাকা বাড়ালেও আগের তেল অনেক ব্যবসায়ী মজুদ রেখে বাড়তি দরে বিক্রি করছেন বলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে প্রকাশ্য হয়।

এই পরিস্থিতিতে খুচরা বাজার স্বাভাবিক না হওয়ার মধ্যে বুধবার মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে ভোজ্য তেলের আমদানি, মজুদ, সরবরাহ, ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আসেন ব্যবসায়ীরা, যাতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

এফবিসিসিআই‘র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু, তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তাসলিম, এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক কাজী সালাহ উদ্দিন এবং সিটি গ্রুপের উপদেষ্টা অমিতাভ চক্রবর্তী, মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা এবং দোকান মালিক সমিতির সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদারসহ আরও অনেকে ছিলেন সভায়।

আলোচনায় টি কে গ্রুপের পরিচালক আতহার তাসলিম বলেন, “এই মার্কেট যদি স্থিতিশীল রাখতে হয়, তাহলে প্রথমেই মার্কেটকে মার্কেটের মতো প্লে করতে দিতে হবে।

“আজকের এই পরিস্থিতির জন্য আমরা মিলমালিক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী একে অন্যকে ব্লেইম করছি (দোষ চাপাচ্ছি), এটা মার্কেটের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলটাকে টুডে অর টুমরো ধংস করে দিবে। এটা ব্যবসার জন্য একটা অশনি সংকেত।”

মিল মালিক প্রতিনিধিদের মধ্যে এস আলম গ্রুপের কাজী সালাহ উদ্দিন আহমদ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজারে হস্তক্ষেপ বন্ধের পক্ষে মত দেন।

তিনি বলেন, “প্রত্যেক বছর রমজানের আগে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পণ্যের দাম কমানোর নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

“২০০৯-১০ সালেও এরকম একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও এরকম হয়েছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি ব্যবসায়ীদের উপর ছেড়ে দেওয়ায় বাজার ঠিকই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।”

সিটি গ্রুপের উপদেষ্টা অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, “ব্যবসাকে তার নিজের মতো চলতে দিতে হবে। সে তার ধারা অনুযায়ী চলবে। তাকে বাধা দিলে অস্থিরতা তৈরি হবে।

“বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে বলেই দেশের বাজারে বেড়েছে। এটা বাজারের উপর ছেড়ে দিতে হবে। বাজারে আস্তে আস্তে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।”

এসময় তিনি বলেন, “সরকার যদি মনে করে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভ করছে, তাহলে টিসিবির মাধ্যমে তেল আমদানি করুক। আমরা সহযোগিতা করব। এরপর সরকারই বাজারজাত করুক।”

টি কে গ্রুপের তাসলিম বলেন, “মিল মালিকরা স্বচ্ছভাবে কাজ করছে কি না, তার জন্য টিসিবির মাধ্যমে দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ তেল আমদানি করার প্রস্তাব করছি।

“যাতে সরকার জানে যে টিসিবি কত দামে আমদানি করছে। তখন সরকার আমাদের আমদানি দরও জানতে পারবে।”


বিভাগ : বাংলাদেশ