বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি

১২ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:৪২ পিএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ এএম


বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে ৫৫ তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শুরু হয়ে মোনাজাত শেষ হয় বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটে। মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব ও তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমেদ।

ইজতেমার মোনাজাতে যোগ দিতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি নানা বিড়ম্বনাকে উপেক্ষা করে ঢাকাসহ আশপাশের জেলা থেকে সকালেই টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ছুটে আসেন। সকাল ৯টার আগেই ইজতেমার পুরো প্যান্ডেল ও ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। এসময় ইজতেমা ময়দান ছাড়াও আবদুল্লাহপুর, উত্তরা, বিমানবন্দর এলাকা থেকে মোনাজাতে অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ।

আখেরি মোনাজাতে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দু-হাত তুলে মুসলিম উম্মার ঐক্য, সুখ ও সমৃদ্ধি চান মুসল্লিরা। মানব জাতির শান্তি এবং কল্যাণ কামনা ছাড়াও দেশের রাজনৈতিক বিভেদ দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তারা। আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া মানুষ একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করেন। শুরু হয় হুড়োহুড়ি এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এতে টঙ্গীর আশে-পাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় জনজট ও যানজট। ফলে আবারো পায়ে হেটে রওনা দেয় মুসুল্লিরা।

এর আগে, কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে শুক্রবার প্রথম দিন থেকেই ইজতেমায় যোগ দেন মুসল্লিরা। ভোরে ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানের মাওলানা খোরশেদ আলমের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এই পর্বের ইজতেমা।

শনিবার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আবদুর রহমানের বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল মতিন। বাদ জোহর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল গোদরা। তা বাংলায় ভাষান্তর করেন মাওলানা মো. নূর-উর-রহমান। বাদ আসর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা জোহায়েরুল হাসান। বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা।

রোববার বাদ ফজর বয়ান করেন মাওলানা জিয়াউল হক। আখেরি মোনাজাতের আগে বিশেষ সমাপনী বয়ান করেন মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। এরপর কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব ও তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমেদ আখেরি মোনাজাত ধরেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো বাংলায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতটি বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এদিকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ চারপাশের এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণিবিতান, অফিসসহ সবকিছু বন্ধ রাখা হয়। এবার বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে এ পর্যন্ত ১২ মুসল্লি মারা গেছেন। ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে ভাগ করে আয়োজন করা হয়।


বিভাগ : বাংলাদেশ