করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯): ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর 'পাগলাটে থিউরি'

১৪ মার্চ ২০২০, ০৮:১০ পিএম | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২০, ০৬:২৯ এএম


করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯): ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর 'পাগলাটে থিউরি'
ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রুখতে বিশ্বের সব রাষ্ট্র যখন বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারে এমন সভা-সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে। একের পর এক বড় বড় সভা-সেমিনার বন্ধ হচ্ছে, সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাটছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বলছেন, বড় জমায়েত করতে দাও, মানুষের মাঝে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।

করোনা আতঙ্কে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যখন স্কুল-কলেজ, স্টেডিয়াম, রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তিনি সেপথে হাঁটেননি। তিনি শুধু মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কারও শ্বাসকষ্ট হলে বাড়িতে শুয়ে থাকুন।

ব্রিটিশ সরকার বলছে, দোকান-বাজার ও লোকজমায়েতের অন্যান্য জায়গাগুলি বন্ধ করে লাভ নেই। তাতে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে, এমন গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। বরং মানুষ যদি কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসে, তাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে। কিন্তু রোগীদের থেকে আলাদা থাকলে তা হবে না।

ব্রিটেনে অনেকেই সরকারের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে মহামারী বিশেষজ্ঞরা যেমন আছেন, তেমনই আছেন সাবেক স্বাস্থ্যসচিব। তাঁরা বলছেন, সরকার ঠিক কী করতে চায় খুলে বলুক।

গত মাসে মনে হচ্ছিল, ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে কম। কিন্তু গত কয়েকদিনে কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে হু হু করে। বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে রোগীর সংখ্যা ছিল ৬০০। শুক্রবারই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০।

বরিস জনসন নিজে বলেছেন, সব জায়গায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই। বাস্তবে ১০ হাজার মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মহামারী বিশেষজ্ঞ ফ্রাঁসোয়া বেলো বলেন, 'বরিস জনসন যা করছেন, তা পাগলামি নাও হতে পারে। হয়তো এতেই ভাল ফল পাওয়া যাবে।'

চিকিৎসকরা অনেকে বলছেন, যেখানে অনেক লোক জড়ো হয় সেখানে কোভিড-১৯ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। বরং বাড়িতে, ক্লাবে বা পানশালায় যেখানে মানুষ ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে মেলামেশা করেই সেখানেই সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ব্রিটেনের চিফ সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইসার স্যার প্যাট্রিক ভ্যালেন্স বলেন, সরকার চায়, বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হোক। একদল বিজ্ঞানী অবশ্য বলছেন, ব্রিটেন যেভাবে সংক্রমণ রুখবে বলছে, তাতে আদৌ ফল হবে কিনা সন্দেহ। আগে কেউ এইভাবে মহামারির মোকাবিলা করেনি। কেউ জানে না, মানুষের শরীরে কবে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে। তার আগে অনেকেই বিশেষত বয়স্করা কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন।


বিভাগ : বিশ্ব