মনোহরদীতে নিখোঁজের একদিন অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার

০৪ আগস্ট ২০২২, ০৮:২৪ পিএম | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২২, ১২:২২ এএম


মনোহরদীতে নিখোঁজের একদিন অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর মনোহরদীতে নিখোঁজের একদিন পর স্বপন মিয়া নামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ডোমনমারা গ্রামের রেনু মাষ্টারের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বপন মিয়া (২৬) মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের আফসার উদ্দীনের ছেলে। তিনি বুধবার রাতে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কল করে জানান, ডোমনমারা গ্রামের রেনু মাষ্টারের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর একটি অটোরিকশা পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে জনমানুষের উপস্থিতি না থাকলেও ওই অটোরিকশার মধ্যে ৩টি মোবাইল ফোন ও কিছুটা দূরে একটি লুঙ্গি পড়ে ছিল। এমন খবরে থানার উপপরিদর্শক মো. মঞ্জুর ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অটোরিকশা ও মুঠোফোন উদ্ধার করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে স্বপন মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. আল-আমিনের বরাত দিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই রাস্তার পাশের একটি মুরগীর সেডে তার চাঁষ করা পেপে বাজারে বিক্রির জন্য মাপার কাজ করছিলেন আল-আমিন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে রাস্তার পাশে এসে একটি খালি অটোরিকশা দেখতে পায়। কিন্তু কোন লোকজন দেখতে না পেয়ে সে বাড়ির ভিতর থেকে একটি টর্চলাইট নিয়ে এসে অটোরিকশার পাশে গিয়ে দেখতে পান, একজনকে মাটিতে ফেলে তার শরীরে ওপর দুইজন দুই হাত চেপে ধরে বসে আছেন।

এ সময় মো. জাকির হোসেন নামের অপর একজন আল-আমিনের কাছে ছুটে এসে বলেন, ভাই আপনি চলে যান, ও আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আপনার কোন সমস্যা নাই। এই বলে সে আল-আমিনকে ঠেলতে ঠেলতে তার বাড়ির দিকে পাঠিয়ে দেয়। পরে আল-আমিন স্থানীয় আরও লোকজনকে ডেকে নিয়ে আসেন কিন্তু এসে আর কাউকেই পাননি। সারা রাত ঘটনাস্থল ও আশপাশে খোঁজা হলেও স্বপন মিয়াকে পাওয়া যায়নি। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে তার নাম মো. জাকির হোসেন (২০)। তিনি মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত জাকিরসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।



এই বিভাগের আরও