কীটনাশকেও দমন হচ্ছে না পোকা, ক্ষতির মুখে সবজি চাষীরা

০৩ জুলাই ২০২২, ০৪:১৮ পিএম | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২২, ০৬:১২ পিএম


কীটনাশকেও দমন হচ্ছে না পোকা, ক্ষতির মুখে সবজি চাষীরা

আসাদুজ্জামান রিপন:
নরসিংদীতে সবজির জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে পারছেন না কৃষকরা। বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক কিনে প্রয়োগ করলেও কাজে আসছে না। এতে কৃষি উপকরণের বাড়তি দামের পাশাপাশি পোকা দমনে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে খরচ বাড়ায় লোকসানে পড়ছেন তারা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে পোকা দমনের জন্য কৃষকদের কে নিয়ম অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


সরেজমিন জেলার বিভিন্ন উপজেলার সবজি চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কাকরোল, করলা, বেগুন, শসা, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, ঢেড়স, ঝিঙ্গা, চাল কুমড়া, টমেটো, ধুন্দলসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদ করেন তারা। পোকা দমনে বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহারের পাশাপাশি পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সবজির জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় কৃষকদের। বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক কিনে প্রয়োগ করলেও দমন করা যাচ্ছে না ফসলের পোকার আক্রমণ। পোকা দমন না হওয়ায় প্রয়োগ করতে হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। আগে যেখানে সপ্তাহে একদিন কীটনাশক প্রয়োগে পোকা দমন হতো, এখন সপ্তাহে একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন হচ্ছে না।


কৃষকদের অভিযোগ যেসব কীটনাশক পোকা দমনে কাজ করে, কিছুদিন পর আর সেসব কীটনাশক আর বাজারে পাওয়া যায় না। প্রতি বছরই নাম পাল্টিয়ে নতুন ধরনের কীটনাশক বাজারে পাওয়া গেলেও এসব তেমন কাজ করছে না। বাজারে বিক্রি হওয়া এসব কীটনাশক আসল না নকল সেসব বিষয়ে নেই কোন তদারকি। ফলে না জেনে বাড়তি দামে কীটনাশক কিনে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে কৃষকদের। একদিকে কীটনাশকসহ কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে শাকসবজির ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখেই থাকতে হয় কৃষকদের।


শিবপুর উপজেলার খড়কমারা গ্রামের সবজি চাষী আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সার, কীটনাশকসহ বাজারে সবধরনের কৃষিপণ্যের দামই বাড়তি। বাজারে যেসব কীটনাশক পাওয়া যায় এসব আসল না নকল আমরা বুঝি না। এসব কীটনাশকে পোকা খুব একটা মরে না। বাধ্য হয়ে কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রা বাড়াতে হয়। আগে যেখানে সপ্তাহে একবার কীটনাশক প্রয়োগ করতাম, এখন তা দুইবার বা আরও বেশি প্রয়োগ করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।


ব্রাহ্মন্দী গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, সবধরনের সবজিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ায় খরচ বাড়ছে কিন্তু পোকা দমন হচ্ছে না। এছাড়া সবজির ন্যায্যমূল্যও না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়। আগে যেসব কীটনাশক পোকা দমনে কাজ করতো সেসব এখন বাজারে পাওয়া যায় না।


লামপুর গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা চাই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি বাড়তি খরচ হয়। কিন্তু কিছুতেই পোকা দমন করা যায় না। বিশেষ করে বেগুন চাষে কীটনাশকের ব্যয় বেশি হয়ে থাকে। বাজারে কীটনাশকগুলো আসল না নকল সেসব তদারকি করা প্রয়োজন।


নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: ছাইদুর রহমান বলেন, জেলায় এ বছর প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। জেলার ৭০ ভাগ সবজিই ঢাকায় পাঠানো হয়। রপ্তানীযোগ্য বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি বিষমুক্ত সবজির উৎপাদন বাড়াতে। কেননা বিষমুক্ত সবজি বিদেশেও রপ্তানী হয়ে থাকে। তবে যেসব জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতেই হবে সেটা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগে পোকার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় দমন হয় না। মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসারদের পরামর্শ মতে নিয়ম মেনে সঠিক পরিমানে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। বাজারে ভেজাল কীটনাশক বিক্রি বন্ধে তদারকি করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।



এই বিভাগের আরও