শিবপুরে কাশ্মীরি আপেল কুল বড়ই চাষে সফলতা

২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:২৮ পিএম | আপডেট: ১৫ মে ২০২২, ১২:৫১ পিএম


শিবপুরে কাশ্মীরি আপেল কুল বড়ই চাষে সফলতা

শিবপুর প্রতিনিধি:
পাঁচ ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ধরে থাকা বড়ই এর ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। পরিপক্ব বড়ইগুলো দেখতে লাল আপেলের মতো, স্বাদে মিষ্টি। কাশ্মীরি আপেল কুল হিসেবে পরিচিত। কাশ্মীরি আপেল কুল দেখতে অনেকটা ছোট সাইজের আপেলের মতো। আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল রং। অধিক পুষ্টিগুন ও সুস্বাধু। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বিষমুক্ত নিরাপদ কাশ্মীরি আপেল কুল চাষ করে প্রথম বছরেই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূবেরগাও গ্রামের লোকমান খান ও শহীদ মৃধা। তাঁরা পেশায় গাড়ী চালক। শারীরিক সমস্যার কারণে লোকমান এখন আর গাড়ি চালাতে পারছেন না। শহীদ মৃধা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তারা দুজনে ভাড়া নিয়ে ১শ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন কাশ্মিরি আপেল কুলের বাগান। পুরো বাগান জুড়েই লাল-সবুজের সমারহ। লাভের আশায় তাদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক। লোকমান একই গ্রামের মৃত এবারত খানের ছেলে ও শহীদ মৃধা মৃত হালিম মৃধার ছেলে।

গতবছরের বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহে ১শ শতাংশ জমিতে ৬শ টি কাশ্মীরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুলসহ ১০ জাতের চারা রোপন করেন তারা। চারা রোপনের প্রথম বছরেই ফুল আসে প্রতিটি গাছে। বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছে আপেল কুল বড়ই ঝুলছে। কুলের গায়ে রং আসতে শুরু করেছে। দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে পুরো বাগান। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন কাশ্মীরি আপেল কুল বাগান দেখতে আসছেন। দেখার পর অনেকেই নতুন নতুন বাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

পূবেরগাঁও গ্রামে সেলিম, আরিফুল, সানাউল্লাহ ও মোমেন খানের কাশ্মীরি আপেল কুলের বাগান রয়েছে। কাশ্মীরি আপেল কুল চাষি লোকমান বলেন, আমি পেশায় একজন চালক ছিলাম, দীর্ঘদিন গাড়ি চালিয়েছি। এখন শারীরিক সমস্যার কারণে গাড়ি চালাতে পারছি না। তাই দুইজনে মিলে জমি ভাড়া নিয়ে কাশ্মীরি আপেল কুলের বাগান করি। আমাদের এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। বাগানে ফলন খুবই ভাল হয়েছে। সামনে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে, আশা করছি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার কুল বিক্রয় করতে পারবো। রৌদ্রজ্জ্বল, উচুঁ জমিতে কুল বাগান করলে ফলন ভালো হয়। যে বাগানে যত বেশি রোদের আলো লাগবে, সেই জমির কুল বেশি মিষ্টি হবে। ৫-৬ হাত দূরত্ব গাছের চারা রোপণ করতে হয়। তুলানামূলক রোগ-বালাইও কম।

শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক জানান, উপজেলায় ১৪ বিঘা জামিতে কাশ্মীরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুল, বাউকুলসহ বিভিন্ন জাতের বাগান রয়েছে। বাগান পরিদশর্ন করে চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।