ফেসবুক খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নাম্বার বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ

১৮ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৪৩ পিএম | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪০ এএম


ফেসবুক খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নাম্বার বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ
সংগৃহিত ছবি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

ফেসবুকে অপপ্রচার ঠেকাতে কর্তৃপক্ষকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) ফেসবুকের বাংলাদেশ বিষয়ক কর্মকর্তা সুজানা সারোয়ারের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আহ্বান জানান ডাক ও টেলি যোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

এসময় অপপ্রচার রোধে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নাম্বার বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ফেসবুক ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট কিংবা সংবাদ প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য পরিবেশন, গুজব ছড়ানো এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেও ফেসবুকের অপব্যবহার করা হচ্ছে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কেবল সমাজ কিংবা রাষ্ট্র-ই নয়, এটি ফেসবুকের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যাতে ভুয়া পরিচিতি ব্যবহার করতে না পারে সে ক্ষেত্রে জাতীয় আইডি কিংবা মোবাইল নাম্বারসহ ফেসবুক আইডি খোলার ক্ষেত্রে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে যথার্থতা যাচাইয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় মন্ত্রী ফেসবুককে বাংলাদেশের আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার অনুরোধ করেন। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মান বিঘ্নিতকর মিথ্যা ও গুজব বা অপপ্রচারমূলক উপাত্ত প্রচার বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়াও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, পর্নোগ্রাফি, জুয়া ও বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধবিরোধী উপাত্ত প্রচার না করতে ফেসবুককে অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশকে ফেসবুকের একটি বড় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী ইন্টারনেটসহ শক্তিশালী টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এখাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী কোনো অশুভ শক্তি যেন ফেসবুককে তাদের মিথ্যাচার, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে এই ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে ফেসবুক প্রতিনিধি সুজানা সারোয়ার বলেন, অন্যান্য দেশের পলিসি, আইন আর বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। আমরা ক্ষতিকর কনটেন্টের বিষয়ে সতর্ক আছি। যেকোনো বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখা উচিত। আমাদের পলিসিতে ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্টের বিষয়ে সচেতন থাকার বিষয়ে সরকার থেকেও বারবার বলা হয়েছে, আমরা সেই আলোকে ব্যবস্থাও নিয়েছি। ভবিষ্যতেও ফেসবুক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।



এই বিভাগের আরও