করোনাভাইরাস: পণ্য আমদানিতে বিকল্প বাজারে নজর রেখেছে সরকার-বাণিজ্যমন্ত্রী

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭:৩৮ পিএম | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২১, ১১:৫৮ পিএম


করোনাভাইরাস: পণ্য আমদানিতে বিকল্প বাজারে নজর রেখেছে সরকার-বাণিজ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি

অর্থনীতি ডেস্ক:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, চীনে করোনাভাইরাস সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদী হলে এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিকল্প বাজারে নজর রেখেছে সরকার। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। বাংলাদেশে সফররত কানাডার সাচকাচোয়ান প্রদেশের কৃষিমন্ত্রী এইচ ই ডাভিড মারিটের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়, এতে করে চায়না থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেলেও সমস্যা হবে না। তবে আদা-রসুনসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়নার বিকল্প বাজারে নজর রাখছে সরকার।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাণিজ্যে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখনই বলার সময় হয়নি কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। আমাদের অনেক আইটেম আছে যেগুলো চায়নার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে রেডিমেট গার্মেন্টসের অধিকাংশ ফেব্রিকস চায়না থেকে আসে, এটার ওপর প্রভাব পড়ছে কি না দেখতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত খুব একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। কারণ এখন চীনে শুধুমাত্র একটি প্রদেশেই সমস্যা হচ্ছে। তারপর এখন ওদের বাৎসরিক ছুটিও চলছে।

তিনি বলেন, ক্ষতির বিষয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নিকট জানতে চেয়েছি। তবে তারা এ বিষয়ে জানাতে দুই-তিন দিন সময় চেয়েছে। আশা করছি আগামী কালের মধ্যে তারা হয়তো একটা আইডিয়া দিতে পারবে, সত্যিকারার্থে কোনো ক্ষতি হবে কি না।

চায়না থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে না পারলে সমস্যা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পেঁয়াজ আসছে মিয়ানমার, টার্কি, মিসর ও পাকিস্তান থেকে। চায়নার জন্য পেঁয়াজের বাজারে প্রভাব পড়বে না। তবে রসুন-আদাসহ অন্যান্য মশলার সমস্যা হবে কি না সেটি দেখছি। তবে সমস্যা হলে আমাদের বিকল্প মার্কেটে আমাদের যেতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে আমরা লক্ষ্য রাখছি যে, কী ধরনের সমস্যা আসতে পারে।

এফবিসিসিআইকে ৩ দিন সময় দেয়া হয়েছিল তারা কোনো প্রতিবেদন দিয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, আমরা গত বৃহস্পতিবার বৈঠক করে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর শুক্র, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় তারা হয়তো দেরি করছে। গার্মেন্টস সেক্টরের যারা ব্যবসায়ী তারা জানেন যে, এ সময়টায় তাদের কোনো আমদানি হবে না। কারণ এ সময় চায়নায় ছুটি থাকে। তাদের কোনো ইমপোর্ট হবে না। তাই ১৩ তারিখ সেখানকার ছুটি শেষ হলে বোঝা যাবে প্রভাব পড়বে কি না।

রসুনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়ে গেছে- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে খুব সিরিয়াসলি নজর রাখছি। পেঁয়াজেও সুযোগ নিয়েছিল, এখনো ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। সমস্যা একটু হলেই তারা সুযোগ নেয়। আগামীকালকেও আমরা এ বিষয়টি নিয়ে নিজেরা বসে করণীয় ঠিক করতে চাই। আদা-রসুন নিয়ে কী করা যায়, সেটা কালকে আলোচনা করব।

চীন কয়েক দফা ছুটি বাড়িয়েছে, তারা ছুটি বাড়ানোর কারণে গার্মেন্টস প্রোডাক্টসে গ্যাপ হতে পারে কি না? জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা আবার ছুটি বাড়ালে গার্মেন্টস সেক্টরে প্রভাব পড়বে। গার্মেন্টস সেক্টরের ব্যবসায়ীরা কী রিপোর্ট দেয় সেটি দেখতে হবে। তবে রাতারাতি এই সেক্টরে বিকল্প মার্কেট পাওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সে দেশেই মৃত্যু হয়েছে ৯০৮ জনের। এছাড়া ফিলিপাইন ও হংকংয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। অর্থাৎ সবমিলিয়ে সোমবার পর্যন্ত এই ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে ৯১০ জনের প্রাণ। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। চীনের বাইরে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ আরও ২৭টি অঞ্চল বা দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এক্ষেত্রে চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এ ভাইরাসের প্রভাবে চীনা নাগরিকদের বিভিন্ন দেশে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হলে দেশটি থেকে মালামাল আমদানি-রফতানিতেও অনেক দেশ আগ্রহ হারাবে।


বিভাগ : অর্থনীতি