নরসিংদীতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব ১৭ তে খেলছেন ৩০ উর্ধ্বরা!

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:২৮ পিএম | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২০ এএম


নরসিংদীতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব ১৭ তে খেলছেন ৩০ উর্ধ্বরা!

স্পোর্টস ডেস্ক:

নরসিংদীর ৬ উপজেলায় চলছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালক (অনূর্ধ্ব-১৭)। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় চলমান এই ফুটবল প্রতিযোগিতার নিয়মানুযায়ী ১৭ বছরের নীচে স্থানীয় বালকরা অংশগ্রহণের কথা।কিন্তু নরসিংদীতে খেলছেন ৩০ উর্ধ্বরাও।     

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকামতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৭ কিশোরদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশসহ খেলাধুলায় আগ্রহী করতেই দেশব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন। এতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে বাছাই হয়ে আসবে ক্ষুদে ফুটবলার। যুব মন্ত্রনালয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবীণ ফুটবলার থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারগণ।

এই টুর্নামেন্টের নিয়মানুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা দলে অনূর্ধ্ব-১৭ বছরের কিশোর বা বালকরা অংশগ্রহণের কথা। কিন্তু নরসিংদী জেলায় এই টুর্নামেন্ট এর শুরু থেকে বালকদের পরিবর্তে খেলছেন উর্দ্ধ বয়সী বহিরাগত নামী ক্লাবের খেলোয়াররা।এতে েব্যাহত হচ্ছে খেলার আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 

খেলোয়ারদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকার মাঠে প্রিমিয়ার লীগ, তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ এমনকি জাতীয় দলের খেলোয়ারও রয়েছেন। ইতোমধ্যে নরসিংদীতে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়ারদের মধ্যে ঢাকার আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাব, সাইফ স্পোর্টস, ধানমন্ডি ক্লাব, বসুন্ধরা ক্লাব, শেখ জামাল ক্লাবের খেলোয়ারগণও রয়েছেন।

সম্প্রতি নরসিংদী সদর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলায় নরসিংদী স্টেডিয়ামে শীলমান্দী একাদশের হয়ে খেলেছেন ঢাকার মাঠের নামকরা ফুটবলার শাহেদ, চিনিশপুরের হয়ে খেলেছেন মোকাররম, খেলেছেন মাসুম বিল্লাহসহ আরো অনেকে।

এছাড়া পলাশে পৌরসভার হয়ে খেলছেন গোলরক্ষক বসুন্ধরা ক্লাবের তুষার অন্যদিকে জিনারদী ইউনিয়নের হয়ে খেলেছেন জাতীয় দলের খেলোয়ার জাবেদ খান। এছাড়া উভয় দলেই খেলেছেন আরামবাগ ও সাইফ স্পোর্টসের নামকরা খেলোয়ারগণ।

একই খেলোয়ার খেলে যাচ্ছেন একাধিক ইউনিয়ন বা উপজেলার হয়েও। শুধু তাই নয়, উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল শেষ হওয়া রায়পুরা ও বেলাব উপজেলায়ও খেলেছেন ঢাকাসহ দেশের নামকরা ক্লাবের ফুটবলারগণ। যাদের বয়স ৩০ বছরের কম নয়।             

এই বিষয়ে প্রবীণ খেলোয়ার তাজুল খান অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, সরকার যে উদ্দেশ্যে খেলাটি মাঠে ছেড়েছেন সেই আশা ব্যর্থ হওয়ার পথে। কেননা এখানে স্থানীয় পর্যায়ের বালক খেলোয়ারগণ অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও দু-একজন ছাড়া কেউ স্থানীয় নয়। এছাড়া ক্ষুদে ফুটবলার বাছাই করাই ছিলো এর লক্ষ্য। কিন্তু সরকারের সেই নিয়ম শুধু কাগজে কলমেই রয়ে গেছে। বয়স ১৭ হওয়ার কথা থাকলেও মাঠে দেখা যাচ্ছে ৩০ বছরের নিচে কোন খেলোয়ার নেই। সত্যিই এই বিষয়টি লজ্জার। 

নরসিংদী শেখ রাসেল একাদশের ক্লাব ম্যানেজার মিনহাজ বলেন, এ খেলাকে ঘিরে সরকারের মূল লক্ষ্যই আজ ভেস্তে যেতে বসেছে। যেখানে ক্ষুদে ফুটবলার বের করার লক্ষ্যে অনুর্ধ্ব এ খেলা। সেখানে মাঠে দেখা যাচ্ছে এর দ্বিগুণ বয়সের খেলোয়াররা অংশগ্রহণ করছেন। সত্যিই বিষয়টি ভাবলে লজ্জা লাগে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নজরদারি করা উচিত।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা চাই সরকারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খেলোয়ারদের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তখন বয়স্ক বা বহিরাগতদের খেলায় সুযোগ না দিলে তারা খেলোয়ার নিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যেতে চান। ফলে খেলায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তখন তাদের চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকা সম্ভব হয় না। তাই কোন রকমে খেলাটি শেষ করতে হয়। 

বঙ্গবন্ধুর নামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও প্রকৃত লক্ষ্য বজায় রাখতে হলে প্রশাসনকে আরো শক্ত ভূমিকা পালনের মাধ্যমে স্থানীয় ও অনুর্ধ্ব ১৭ বছর বয়সের খেলোয়ারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই খেলাটি সম্পন্ন করলে খেলার প্রকৃত লক্ষ্য পূরণ হবে বলে বিশ্বাস প্রবীণ ফুটবলারদের। 


বিভাগ : খেলা


এই বিভাগের আরও