নরসিংদী সদর হাসপাতালে চুরি হওয়া নবজাতক ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার

১০ মে ২০২১, ১২:৩৫ পিএম | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৩ পিএম


নরসিংদী সদর হাসপাতালে চুরি হওয়া নবজাতক ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর দুই দিন বয়সী নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে পৌর শহরের ব্রাহ্মন্দী মহল্লার মালাকার মোড়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পরপরই ওই নবজাতককে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে চুরির দায়ে অভিযুক্ত ওই নারীকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলার বহির্বিভাগ থেকে এই নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। দুইদিন বয়সী ওই নবজাতক ছেলে শিশুটি ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকায় হাসপাতালটির বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। চুরির ঘটনার পরপরই পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতক ছেলে শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।

চুরি হয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার করা নবজাতক শিশুটি মো. আনিস মিয়া ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির। দুই মাস আগে সন্তান সম্ভবা সুমাইয়া আক্তারকে স্বামীর বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নরসিংদীতে বাপের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তার বাপের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া গ্রামে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নরসিংদী সদর হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতি সুমাইয়া আক্তারের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই নবজাতক ছেলে শিশুর জন্ম হয়। পরে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় রোববার বেলা ১১টার দিকে ওই নবজাতককে চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার নানী পরীবানু। হাসপাতালটির ২য় তলায় বহিবিভাগে রোগীর লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। এ সময় সিরিয়াল এগিয়ে আনার চেষ্টা করার জন্য নবজাতকের নানী পরিবানুকে পরামর্শ দেন পাশে থাকা অজ্ঞাত এক নারী। তার পরামর্শে নবজাতক নাতিকে অজ্ঞাত ওই নারীর কোলে দিয়ে সিরিয়ালের খবর নিতে সামনে এগিয়ে যান পরিবানু। এই সুযোগে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই নবজাতককে নিয়ে উধাও হয়ে যান অজ্ঞাত ওই নারী।

পুলিশ জানায়, নবজাতক চুরি হয়ে যাওয়ার পরপরই আমরা হাসপাতালটির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্ত ওই নারীকে চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে গতকাল দুপুরে চুরি হওয়া নবজাতকের নানী পরীবানু নরসিংদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে রোববার রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ। দিবাগত রাত দুইটার দিকে নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমানের নেতৃত্বে মালাকার মোড়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় যার হেফাজত থেকে নবজাতক উদ্ধার করা হয় ওই নারী জানান, চুরি করা ওই নারী নবজাতকটিকে তার কাছে রেখে গেছেন। হেফাজতে রাখা নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে নবজাতককে তাঁর মা সুমাইয়া আক্তারের কোলে তুলে দেওয়া হয়।

উদ্ধারের পর নবজাতকের মা সুমাইয়া আক্তার জানান, আমার বুকের ধন আমি ফিরে পাইছি, আমি এতেই খুশি। যে নারী আমার ছেলেকে চুরি করেছিল আমি তার বিচার চাই।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ আমিরুল হক শামীম জানান, এর আগে আমাদের এই হাসপাতালে নবজাতক চুরির মতো ঘটনা কোনদিন ঘটেনি। অভিযুক্ত ওই নারীকে চিহ্নিত করে নবজাতক উদ্ধার করা গেছে, এটাই আনন্দের। উদ্ধারের পর নবজাতক ও তাঁর মাকে আমরা এই হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে নবজাতক চুরি করা নারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে যে নারী নবজাতক চুরি করেছে তাকে পাওয়া যায়নি। যে নারীর হেফাজত থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করেছি তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নবজাতক চুরি করা নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।