শিবপুরে ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা, গাড়ী ভাংচুর, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫

২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:২৫ পিএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০১৯, ০৮:২৮ এএম


শিবপুরে ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা, গাড়ী ভাংচুর, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫

নিজস্ব প্রতিনিধি

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মনজুর এলাহীর প্রধান নির্বাচনী অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে শিবপুর কলেজ গেইটস্থ ধীমান মার্কেটের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ১৬টি মোটরসাইকেল, ৬টি গাড়ী ও অফিস ভাংচুর করা হয়। হামলার ঘটনায় মাহদিয়া নামে চতুর্থ শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন পথচারী আহত হয়েছেন। আহতদের শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।


শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলাকারীরা যে দলেরই হোক না কেন গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দুপুরে ৪টি গাড়ীযোগে এসে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী অতর্কিতে ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় এলেপাথারিভাবে গুলি ছুড়ে আতংক সৃষ্টি করলে স্থানীয়রা পালাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রার্থীর কার্যালয়ে সামনে রাখা ২২টি মোটরসাইকেল, গাড়ী ভাংচুর ও অফিসের ভেতরে ভাংচুর করা হয়। এসময় কার্যালয়ের পাশে থাকা মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।


শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিছ রিকাবদার বলেন, সকালে নির্বাচনী প্রচারনার জন্য প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অফিসে জড়ো হন। এসময় নৌকার সমর্থকরা নৌকার স্লোগান দিয়ে অতর্কিতে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করে। পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা চালানো হলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। হামলার সময় আমাদের দলীয় প্রার্থী সেখানে ছিলেন না।
যোগাযোগ করা হলে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলাকারীরা যে দলেরই হোক না কেন তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


এ ব্যাপারে জানতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল হক মোহনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে পরে ফোন দেয়ার জন্য বলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম রাখিল বলেন, শিবপুর বিএনপি এখন ৪টি গ্রুপে বিভক্ত। তারা তাদের প্রার্থী বহিরাগত বলে মেনে নিতে পারছে না। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। নৌকার ওপর দোষ চাপানোর জন্য তারা নৌকার স্লোগান দিয়ে হামলা করে থাকতে পারে।