পলাশে ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতারঃ ফেসবুকে নিন্দার ঝড়

১০ জুন ২০১৯, ১১:১৮ পিএম | আপডেট: ২৭ জুন ২০১৯, ০৯:৩৮ এএম


পলাশে ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতারঃ ফেসবুকে নিন্দার ঝড়

পলাশ প্রতিনিধি:

নরসিংদীর পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মো: রাজন গ্রেফতারের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় বইছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মী থেকে দায়িত্বরত বিভিন্ন পদধারী নেতারা তাদের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতেও চাচ্ছেন।

এসব স্ট্যাটাসে পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও উগ্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। গত ৮ জুন পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও হামলার অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ সভাপতি রাজনসহ ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন শনিবার বিকালে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের শীতলক্ষ্যা ব্রিজের পাশে দুপক্ষের মারামারির ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করলে সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে হামলা চালায়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ শাহিন জানান, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ছাত্রলীগের সভাপতিকে আটক করে মামলা দিয়েছে। ওই দিন বিকালে পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়া থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি কাইয়ুমসহ কয়েকজন চরসিন্দুর ব্রিজের পাশে নদীপথে নৌকা দিয়ে ঘুরতে ছিল। পরে সেখানে কয়েকজন বখাটে তাদের আটকিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহারি ঘটনা ঘটে। এরপর কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বিষয়টি রাজনকে ফোন করে জানালে রাজন গিয়ে ওই বখাটেদের চরথাপ্পড় দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। এর কিছুক্ষণের মাথায় চরসিন্দুর ফাঁড়ি থেকে কিছু পুলিশ সেখানে গিয়ে সবাইকে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে সভাপতি রাজনসহ অনেকেই আহত হয়। সে সময় সভাপতিকে বাঁচাতে গিয়ে পুলিশের সাথে কিছু নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি হয়, এটিও অনাকাংখিত। এতে রাজনের কোন ইন্ধন ছিল না। আর এতেই পুলিশ হামলার নাটক সাজিয়ে রাজনের নামে মামলা দিয়ে তাকেসহ ৬জনকে গ্রেফতার করেছে। যা অত্যন্ত দু:খ ও লজ্জাজনক।

গাজীপুর কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: কাইয়ুম ভূইয়া জানান, ওই দিন রাজনকে ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসি। রাজন বখাটেদের বিরুদ্ধে যে ভুমিকা নিয়েছে তা প্রশংসাজনক। অথচ অজানা কারণে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করে সবার উপর অর্তকিত হামলা চালায়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে উল্টো তারাই আবার রাজনসহ অনেকের বিরুদ্ধে অন্যায়মূলক মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে আমি নিজেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি।

গজারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ইফতি জানান, রাজনকে গ্রেফতারের খবর শুনে আমরা সবাই হতবাক হয়ে যাই। রাজন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ছাত্রলীগকে অনেকটা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে আসছে। যার প্রতিফলন হিসেবে নেতাকর্মীরা তার গ্রেফতারের খবর শুনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমরা রাজনের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ তার মুক্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।