পলাশে সরিষার আশাব্যঞ্জক ফলনে খুশি কৃষকরা

০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:০৯ পিএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০১৯, ১১:৫৮ এএম


পলাশে সরিষার আশাব্যঞ্জক ফলনে খুশি কৃষকরা
গজারিয়া ইউনিয়নের একটি সরিষা ক্ষেত --নরসিংদী টাইমস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় চলতি বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে পলাশ উপজেলা কৃষি বিভাগ। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় এ মৌসুমে সরিষার আশাব্যঞ্জক ফলনে খুশি এলাকার কৃষকরা। পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল, গজারিয়া, জিনারদী ও চরসিন্দুরের শীতলক্ষ্যার বুকে জেগে উঠা বিশাল চরের মাঠ জুড়ে সরিষা চাষের সফলতা নতুন আশার সঞ্চার করেছে কৃষকদের।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫০০ কেজি।
তিনি আরো বলেন, আগে কৃষকরা স্থানীয় জাতের বীজ টরি-৭ চাষ করায় উৎপাদন অনেক কম হতো। তাই কৃষকরাও সরিষা উৎপাদনে অনিহা প্রকাশ করতেন। কিন্তু আমরা কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল সরিষার বীজ বারি সরিষা-১৪, বারি-১৫ ও বারি-১৭ বীজ বপনের পরামর্শ দিলে কৃষকরা তা ফলন করে এখন উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে। সরিষা গাছের উচ্চতা হয় এক ফুটের মতো। আগে সরিষা গাছ বড় হলেও ফলন হতো কম। নতুন জাতের ছোট আকারের এ সরিষা গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল আসছে। তাছাড়া আমরা গত দুই বছর যাবত উপজেলার ১০০ প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সরিষার বীজ. সার ও কীটনাশক সরবরাহ করার ফলে উপজেলায় এখন সরিষার আবাদ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া বীজ বপনের ৭০দিন থেকে ৮০ দিনের মধ্যে সরিষা ঘরে তুলতে পারে বলে এর উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে তিনি সরিষা আবাদ করেছেন। এ আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক কম লাগে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে।
অপর এক কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, সরিষা থেকে শুধু তেলই তৈরি হয় না, এ সরিষা ভাঙ্গিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভুষি তৈরি হয়। যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
কৃষক হাতেম আলী জানান, আমি এ বছর লাভবান হওয়ার কারণে আগামী মৌসুমে আমাদের এলাকার অনেক কৃষক এ জাতের সরিষা আবাদের আগ্রহ দেখাচ্ছে।