নরসিংদীতে বিএনপির ৫ প্রার্থীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন মিথ্যা মামলা, নির্বাচনী প্রচারে বাধা, গাড়ী ভাংচুর ও হামলার অভিযোগ

২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:২০ পিএম | আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯, ১০:৩৫ পিএম


নরসিংদীতে বিএনপির ৫ প্রার্থীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন মিথ্যা মামলা, নির্বাচনী প্রচারে বাধা, গাড়ী ভাংচুর ও হামলার অভিযোগ
Narsingdi_Election

 

নরসিংদী প্রতিবেদক


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি তোলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নরসিংদীর পাঁচটি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী ২ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খানসহ অপর চার প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মামলা হামলার স্বীকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।


নরসিংদীর ৫টি আসনেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, নির্বাচনী প্রচারে বাধা, গাড়ী ভাংচুর ও হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়ার চারদিন পরও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যতই মামলা চালানো হউক না কেন বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ ছাড়বে না।


এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা বের হওয়ার সময় বিএনপির প্রার্থীদের সামনে থেকেই আনুমানিক ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে তারা কোন কথা বলতে রাজি হননি।


জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খান, কারাগারে থাকা নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবিরের স্ত্রী কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নরসিংদী-৩ আসনের প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনের প্রার্থী ও মনোহরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও নরসিংদী-৫ আসনের প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল প্রমুখ।


সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী-১ (সদর) আসনের নির্বাচনী চিত্র তোলে ধরে শিরীন সুলতানা বলেন, যেসব নেতাকর্মী আমাদের নির্বাচন পরিচালনা করবে পুলিশ তাদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা কোথাও নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ করতে পাচ্ছি না। এমনকি আমার স্বামী বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনকে একে একে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না।


নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদরের একাংশ) আসনের নির্বাচনী চিত্র তোলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এমন কোন দিন যায় নাই যে আমিসহ আমার নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হচ্ছি না। তাহলে কোথায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড? আমরা এসব হামলার প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাহলে তারা কেন এমন নির্বাচন দিল?


নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের নির্বাচনী চিত্র তোলে ধরে মনজুর এলাহী জীবননাশের আংশকার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিনিয়ত আমার ও আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে। গত বুধবার আমার ১০ গাড়ি ১৭ টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীবাহিনী। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতিতে আছি তাতে আমি জীবননাশের হুমকিতে আছি। এজন্য আজ শুক্রবার আমি থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করব।


নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের নির্বাচনী চিত্র তোলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে বলেন, এই দেশটি আমরা কেন স্বাধীন করেছি? যেখানে পুলিশের ছত্রছায়ায় আমার উপর হামলা হয়েছে, আমার গাড়ি ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আমার নেতাকর্মীদেরকে কুপিয়ে আহত করেছে। সেখানে আবার আমার নেতাকর্মীদেরকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।


নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের নির্বাচনী চিত্র তোলে ধরে মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, রায়পুরায় বেছে বেছে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকদেরকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে প্রশিক্ষণের সময় বলে দেওয়া হয়েছে দলীয় লোকজন ইশারা দেওয়া মাত্র নৌকা প্রতীকে সীল দেওয়ার জন্য।