কবি ও ছড়াকার আবু আসাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৩ এএম | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৫ এএম


কবি ও ছড়াকার আবু আসাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ১৪ জানুয়ারি দেশবরেণ্য কবি ও ছড়াকার নরসিংদীর শিবপুরের কৃতি সন্তান আবু আসাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারী না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। চিরকুমার মরহুম কবি আবু আসাদ জীবদ্দশায় ৫৭ বছরের সাদা-মাটা কর্মময় জীবনে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিকতার মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
তার পিতার নাম ইন্তাজ আলী মিয়া ও মাতার নাম আমিনা খানম। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। মরহুম কবি আবু আসাদের পিতাও সাহিত্য প্রেমিক ছিলেন। ডাকযোগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বই সংগ্রহ করে পড়তেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ছিলেন একজন উৎসাহী ও একনিষ্ঠ পাঠক। আবু আসাদের ডাক নাম ছিল বাচ্চু। শৈশব থেকেই আবু আসাদ বাচ্চু বাবার সংগৃহিত বই-পত্র পড়ে ক্রমশ লেখালেখি ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেছিলেন।
কিশোর বয়সেই তিনি ছড়া ও কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন তিনি জীবনের প্রথম ছড়া কবিতা “অতীতের স্মৃতি’ লিখেন। স্বাধীনতার পর শিবপুরের নোয়াদিয়ায় কমল-কলি নাট্যগোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে তার সম্পাদনা ও পরিচালনায় যাত্রা নাটক “জোসনা-তারা” মঞ্চস্থ হয়।
তার রচিত যাত্রা নাট্যগ্রন্থ “ঊষা রানী প্রদীপ কুমার” এবং “বাঘ কন্যা বনকুমারী” প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সময় থেকে তার লেখা ছড়া ও কবিতা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয় থেকে ছড়া-গীতি-নাটিকায় পুরস্কৃত হন। ১৯৮৮ সালের ২৬ আগষ্ট তিনি সর্বপ্রথম ‘বর্ষা এলো বৃষ্টি এলো’ গীতি নাটকটি বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের কলকাকলী থেকে সম্প্রচারিত হয়।
তিনি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘সৌরভে গৌরবে’ অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন। ১৯৮০ সাল থেকে কবি আবু আসাদ নোয়াদিয়া কে, এইচ, বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিকতা করতেন। এদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের বিকশিত করাসহ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকরণ ও মুক্তচিন্তার অধিকারী হওয়ার ল্েয তিনি ১৯৯৩ সালে ‘ভোরের পাখি’ নামক একটি শিশু সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারী দেশবরেণ্য কবি ও ছড়াকার আবু আসাদ না ফেরার দেশে চলে যান। চিরকুমার মরহুম কবি আবু আসাদ জীবদ্বশায় ৫৭ বছরের সাদা-মাটা কর্মময় জীবনে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কবি আবু আসাদ বাচ্চু’র মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে তার নিজ বাড়ীতে কবি আবু আসাদ একাডেমী ও স্মৃতিসৌধ স্থাপিত হয়। শুভাকাঙ্খী মহলের তত্ত্বাবধানে কবি আসাদ একাডেমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার আবু আসাদের প্রকাশিত ছড়াগুলো আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত শিশু-কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে বরেণ্য এই কবি’র শ্রম ও স্বপ্ন স্বার্থক হয়ে উঠবে এবং তিনি আমাদের বেঁচে থাকবেন চিরকাল।