নরসিংদী জেলার শিক্ষকদের কাঁদিয়ে অবসরে যাচ্ছেন জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মো: হারুন-অর-রশীদ সরকার

২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৬ এএম | আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৯, ১২:১৪ পিএম


নরসিংদী জেলার শিক্ষকদের কাঁদিয়ে অবসরে যাচ্ছেন জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মো: হারুন-অর-রশীদ সরকার
আগামী ৩১ ডিসেম্বর  চাকুরী থেকে অবসরে যাচ্ছেন শ্রদ্ধেয় নরসিংদী’র জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মো: হারুন-অর-রশীদ সরকার । শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে চাকুরীর শেষ সময়েও কাজ করে যাচ্ছেন জনাব মো: হারুন-অর-রশীদ সরকার স্যার । স্যার এর সু-স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি । স্যার ভাল থাকবেন আমাদের জন্য দোয়া করবেন ।
 
জনাব মো: হারুন-অর-রশীদ সরকার । জেলা শিক্ষা অফিসার , নরসিংদী ।আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ স্যার অবসরে যাচ্ছেন । স্যার ১৯৮৪ খ্রি: ৫ মে থানা শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন । ১৯৯৩ সাল থেকে জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে অদ্যাবধি  দায়িত্বপালন করে আসছেন । স্যার ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ,নরসিংদী ,নওগা ,কিশোরগঞ্জ,ঢাকা ,মযমনসিংহ , রাঙ্গামাটি এবং সর্বশেষে দ্বিতীয়বার নরসিংদী । স্যার ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক ও ছিলেন । 
 
স্যার এর সাথে আমার অন লাইনে পরিচয় । অত:পর স্যার যখন রাঙ্গামাটি’র জেলার দায়িত্বে ছিলেন তখন চট্টগ্রাম শিক্ষা কমপ্লেক্সে  এক প্রোগ্রামে স্যার এর সাথে সামনা সামনি পরিচয় । স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন আপনি সাইফুল সাব না ? আমি বললাম জি স্যার । স্যার সামাজিক যোাগাযোগ মাধ্যম থেকেই আমাকে চিনলেন । পরে স্যারের সাথে কথা হলো । সেই থেকে অনলাইনে স্যার এর সাথে যোগাযোগ হতো আমার নিয়মিত । 
 
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি উল্লেখিত জেলা সমূহে শিক্ষার মানোন্নয়নে অত্যন্ত দক্ষতা এবং সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন । প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর এটুআই প্রোগ্রাম থেকে যখন শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি’র ব্যবহার শুরু হয় তখন থেকে তিনি তাঁর জেলায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এ ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন । বিশেষ করে ময়মনসিংহ , ঢাকা এবং নরসিংদী জেলায় শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে তিনি কাজ করেন ।
নরসিংদী’র ৬ টি উপজেলায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি আইসিটি কার্যক্রম সক্রিয় করা , শিক্ষকগণ যাতে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে পাঠদান করেন,শিক্ষক বাতায়ন এ সক্রিয় থাকেন, মুক্তপাঠ থেকে শিক্ষকগণ যাতে বিভিন্ন কোর্স সমূহ সম্পন্ন করে এবং কিশোর বাতায়ন নিয়ে যাতে শিক্ষকগণ কাজ করেন সেজন্য তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে নরসিংদী’র ৬ (ছয়) টি উপজেলায় কর্মশালা করেন যা অত্যন্ত প্রশংসার দাবী রাখে । 
 কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তথা শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি বাস্তবায়নে অনন্য অবদান রাখায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় , প্রাথমিক ও গণ-শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং A2i ( Access to Information , PMO Office ) এর আয়োজনে ২০১৭ সালে ২০-২২ ডিসেম্বর কক্সবাজারে শিক্ষক সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা স্মারক এবং সার্টিফিকেট তাঁকে প্রদান করা হয় এবং তিনি সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন । উল্লেখ্য উক্ত সম্মেলনে সারা দেশের মোট ৫ জন জেলা শিক্ষা অফিসারকে শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অসামান্য অবদান রাখায় সম্মাননা স্মারক এবং সার্টিফিকেট দেওয়া হয় । এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তরা হলেন যথাক্রমে কুমিল্লার জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ আব্দুর মজিদ ( তিনি ২০১৬ সালে জাতীয়ভাবে বাংলাদেশের সেরা জেলা শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হন ) , যশোহর এর সম্মানিত জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব আমিনুল ইসলাম টুকু , ময়মনসিংহ এর সম্মানিত জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব রফিকুল ইসলাম , সিরাজগঞ্জের সম্মানিত জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ সফিউল্লাহ এবং নরসিংদী এর সম্মানিত জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ হারুন অর রশীদ সরকার । 
 
স্যারের সাথে সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে  ঢাকা বিভাগীয় শিক্ষক অ্যাম্বাসেডর সম্মেলনে আমার সাক্ষাত হয়। যখনি  দেখা হয় স্যার কুশল বিনিময় করেন । কেমন আছি জিজ্ঞেস করেন কাজের প্রশংসা করেন খোজ খবর নেন । আমাকে কাজে উৎসাহিত করেন । 
স্যার সারা জীবন শিক্ষার কল্যাণে কাজ করেছেন , সমাজ বিনির্মাণে শ্রম দিয়েছেন , ছাত্র-শিক্ষক এর কল্যাণে কাজ করেছেন এবং সহকর্মীদেরকে সহযোগিতা করেছেন , শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন । আপনি যে  মানুষের কল্যাণে রাষ্ট্রের কল্যাণে যে সমস্ত কাজ আপনি করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের একজন সচেতন কর্মকর্তা হিসেবে আমি আমরা গর্ববোধ করি । 
স্যার, আমাদের জন্য দোয়া করবেন । মহান আল্লার আপনাকে দীর্ঘায়ু করুক এবং সু-স্বাস্থ্য দান করুক। 
 
লেখকঃ মো: সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, লংগদু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।


এই বিভাগের আরও