২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানির টার্গেট ৪৪ বিলিয়ন ডলার

২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৩ এএম | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯, ১০:১৪ পিএম


২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানির টার্গেট ৪৪ বিলিয়ন ডলার
Economy

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশ সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ১৯৭২ সালে ২৫ পণ্যে রফতানি আয় ছিল মাত্র ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে ৪১ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমাদের রফতানি টার্গেট ৪৪ বিলিয়ন। এ জন্য সরকার নতুন নতুন পণ্যও প্রণোদনা দিচ্ছে। যাতে করে রকমারি পণ্যের রফতানি বাড়ে। সরকার নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির জন্যও নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। সর্বশেষ ৯টি পণ্যে নগদ প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রফতানি বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে অবদানের জন্য সিআইপি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, মাথাপিছু আয় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি।

মানব উন্নয়ন সূচকেও অগ্রগতি হয়েছে। সেবা খাতে রফতানি আয় বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। এছাড়া অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ঊর্ধ্বমুখী। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধারে ব্যবসাবান্ধব, জনবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের বেতন ৫১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

কারখানাগুলোকে গ্রিন ফ্যাক্টরিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একদিকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। অন্যদিকে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিআইপি (রফতানি) নীতিমালা-২০১৩ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জন্য ১৭৮ ব্যবসায়ীকে সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে ১৮টি পণ্য খাতে ১৩৭ রফতানিকারক এবং পদাধিকারবলে ৪১ ব্যবসায়ী নেতাকে সিআইপি কার্ড দিয়ে সম্মানিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, চার বছর ধরে প্লাস্টিক খাতে সিআইপি কার্ড প্রদান করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি এক গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত ব্যবসায়ীরা সচিবালয়ে প্রবেশে পাস, গাড়ির স্টিকার, জাতীয় অনুষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন।

বিমান, সড়ক, রেলপথ ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন।

একই সঙ্গে সিআইপিদের জন্য ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ করে ‘লেটার অব ইনট্রোডাকশন’ ইস্যু করবে।

সিআইপিরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। সিআইপি ব্যক্তিদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। সিআইপি (রফতানি) কার্ডের আওতায় এক বছর ও পরবর্তী সিআইপি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তারা এ সুবিধা পাবেন।


কার্ডপ্রাপ্তদের কয়েকজন হলেন- আলিফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. মোতালেব হোসেন, কুলিয়ারচর সি ফুডের চেয়ারম্যান মুুছা মিয়া, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের এমডি অঞ্জন চৌধুরী, পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান আহমেদ, বাবুল জুট ট্রেডিংয়ের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুল, রেজা জুট ট্রেডিংয়ের সেলিম রেজা, জনতা জুট মিলস লিমিটেডের এমডি নাজমুল হক প্রমুখ।

বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।



এই বিভাগের আরও