পলাশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে চলছে হাসপাতাল

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:১১ পিএম | আপডেট: ২৩ মে ২০১৯, ০১:৪১ এএম


পলাশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে চলছে হাসপাতাল

নূরে-আলম রনি ॥
নরসিংদীর পলাশে নামে-বেনামে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলেই চালানো হচ্ছে হাসপাতালের রমরমা ব্যবসা। অধিকাংশ সেন্টারের নেই সরকারী অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। কেউ কেউ লাইসেন্সের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন পাঠিয়েই বড় বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রোগ নিরাময় কেন্দ্র খুলে বসেছেন। আবার কোথাও কোথাও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নিয়ে সাজিয়ে বসেছে হাসপাতালের ব্যবসা।
স্থানীয়রা জানান, এসব হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রোগী, ভাড়া করে আনা হয় চিকিৎসক। এমন ফাঁদে পড়ে নানা হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন রোগীরা। সাইনবোর্ড সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মনীতির বালাই নেই, হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দ্বারাই চালানো হয় রোগ নির্ণয়ের যাবতীয় পরীা। এতে তাদের মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করায় ঠকছেন রোগীরা। একই রোগ পরীায় একেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একেক রকম রিপোর্ট পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় অহরহ। এসব সেন্টার থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সরেজমিনে উপজেলার প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, সেন্টারগুলো থেকে প্রতিনিয়ত রক্ত মিশ্রিত ব্যান্ডেজ, রোগীর অস্ত্রোপাচারের মাংসের টুকরা, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের আশপাশের খোলাস্থানে। নিয়ম অনুযায়ী এগুলো ইনসিনেটরে পোড়ানোর কথা। এসব বর্জ্য থেকে সিরিঞ্জসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ধুয়ে মুছে আবার ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ঘটছে।
অপরদিকে এই বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে খোলা জায়গায় ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে মারাত্মকভাবে। অভিযোগ রয়েছে, ডাক্তাররা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সরবরাহকৃত সিøপে টিক মার্ক দিয়ে দেন কী কী পরীক্ষা করাতে হবে। রোগী তার পছন্দমতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেই পরীক্ষা করালে ডাক্তার সে রিপোর্ট গ্রহণ করেন না। কমিশন শর্ত থাকায় ডাক্তার তার নির্ধারিত সেন্টার থেকে আবার একই টেস্ট করিয়ে আনতে চাপ দেন।
আদায় করা হয় পরীার ফি বাবদ ইচ্ছে মাফিক টাকা-পয়সা। একই ধরণের প্যাথলজিক্যাল পরীার জন্য একেক প্রতিষ্ঠানে ধার্য আছে একেক ধরণের ফি। নিয়ম অনুযায়ী রেট চার্ট স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের চোখে পড়ার মতো স্থানে লাগিয়ে রাখার কথা। কিন্তু কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই এসব ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে।
পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরএলাকায় আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে অনলাইনে আবেদন করেই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করেছে। অথচ এটির কোন অনুমোদন এখনো হয়নি।
এ ব্যাপারে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আনিছুর রহমান জানান, অনলাইনে আবেদন করলেই কার্যক্রম চালানো যায়। হাসপাতালের ব্যবহৃত বর্জ্যরে বিষয়ে তিনি জানান, পৌরসভার ময়লার স্থানে এসব ফেলা হয়।
অপরদিকে পলাশ নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত আনোয়ারা মেডিকেল কমপ্লেক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে আনোয়ারা মেডিকেল কমপ্লেক্সের পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানান, নামেই হাসপাতাল দেওয়া হয়েছে, এখানে কোন হাসপাতালের কার্যক্রম হয় না।
এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আল-বেলাল জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতালগুলো অনুমোদন ও পরিবেশের বিষয়গুলো দেখার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল অফিসার দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ভুইফোঁড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিভাগ : জীবনযাপন