জেনে নিন কী কারণে টেলিভিশন বিষ্ফোরণ ঘটে

১৯ মে ২০১৯, ০৩:১১ পিএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০১৯, ০১:২২ এএম


জেনে নিন কী কারণে টেলিভিশন বিষ্ফোরণ ঘটে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের একটি বাসায় সম্প্রতি টেলিভিশন বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে দগ্ধ হয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। তবে কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটে এবং কোন ব্র্যান্ডের টেলিভিশন তা জানা যায়নি। প্রায়ই গণমাধ্যমে টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর আসে। ২০১৩ সালে রাজধানীর কাফরুলে টেলিভিশন বিস্ফোরণে মা ও দুই সন্তানের মৃত্যু হয়। ২০১৪ সালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি বস্তিতে টেলিভিশন বিস্ফোরণে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে রাজধানীর কালশীর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে টেলিভিশন বিস্ফোরণে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়, দগ্ধ হন আরও দুজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নমানের উপকরণ ও যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি টেলিভিশন সেট বিভিন্ন কারণে বিস্ফোরিত হতে পারে। অনেক সময় হাইভোল্টেজ, ত্রুটিযুক্ত বিদ্যুৎ লাইন ও ওয়্যারিং, নিম্নমানের ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ ইত্যাদি হতে পারে দুর্ঘটনার কারণ। বিদেশ থেকে আমদানি করা নিম্নমানের টেলিভিশন এবং দেশে তৈরি নকল ও নন ব্র্যান্ডের টেলিভিশন ব্যবহার বন্ধ করে অনাকাক্সিক্ষত এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। অনেক সময় শর্টশার্কিটের কারণেও বাড়িতে আগুন লেগে সেই আগুনে টেলিভিশন সেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

টেলিভিশনে কেন বিস্ফোরণ ঘটে—এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী বলেন, নতুন প্রযুক্তির টেলিভিশনে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয়। আমি নিশ্চিত নই যে টেলিভিশন সেটটি নতুন না পুরোনো। যে টিভিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটা হয়তো পুরোনো টেলিভিশন। পুরোনো টেলিভিশনে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ পুরোনো মডেলের টেলিভিশনে থাকে সিআরটি (ক্যাথড রে টিউব) মনিটর। সিআরটি মনিটর টেলিভিশনের ভেতরে ভ্যাকুয়াম টিউব থাকে যার ভেতরে থাকে ইলেকট্রন গান (যার মাধ্যমে ছবি তৈরি হয়)। পুরোনো টিভি হয়তো কোনো অনভিজ্ঞ মেরামতকারীর হাতে পড়েছিল। ফলে এক সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তিনি জানান, নতুন প্রযুক্তির টেলিভিশনগুলো কম ভোল্টেজে চলে। এসব এভাবেই তৈরি করা হয়ে থাকে। ফলে দুর্ঘটনার ঘটার কোনো আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক শর্টসার্কিটের ফলে অনেক সময় বাসাবাড়িতে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন লেগেও টেলিভিশন বিস্ফোরণ হতে পারে।

এ বিষয়ে ওয়ালটন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশে আমদানি হওয়া নিম্নমানের টেলিভিশন সেটগুলোতে চার্জ ভোল্টেজের (পাওয়ার সিস্টেমে হঠাৎ করে খুব অল্প সময়ের জন্য অস্বাভাবিক ভোল্টেজ বৃদ্ধি, একে ট্রানজিয়েন্ট ভোল্টেজও বলে) জন্য কোনো প্রটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয় না। যার ফলে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নিম্নমানের টেলিভিশনে যে ব্যাক কাভার বা ব্যাক কেবিনেট ব্যবহার হচ্ছে তা রিসাইক্লিং রেজিন দিয়ে তৈরি যার অগ্নিপ্রতিরোধের কোনো ক্ষমতা থাকে না। ফলে কেবিনেটে আগুন ধরে গেলে টেলিভিশনে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে। বেসিক নিয়ম হচ্ছে টেলিভিশনের ব্যাক কাভার তৈরিতে ভি-জিরো রেজিন (প্লাস্টিক) ব্যবহার করা। ভি-জিরো রেজিনে ফ্লেম রিডানডেন্ট বেশি। এতে প্লাস্টিকের যেখানে আগুন লাগবে কেবল সেখানেই পুড়বে। আগুন ছড়াবে না। এসব টিভির পাওয়ার বোর্ডে চার্জ ভোল্টেজ প্রটেকশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।’

মোস্তাফা নাহিদ হোসেন মনে করেন, নিম্নমানের ওপেন সেল (টিভির স্ক্রিন বা পর্দা) ভালো না হলেও টিভিতে সমস্যা হতে পারে। তার পরামর্শ হলো, নিম্নমানের এবং নন ব্র্যান্ডের টিভি কেনা থেকে বিরত থাকা। নিম্নমানের টিভিতে কোনো কিছুই দেখা হয় না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি আরও জানান, ব্র্যান্ডেড টিভিতে অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ধরা যাক কোনো ব্র্যান্ডের টিভি ৪-৫ বছরের ওয়ারেন্টি দিলো। এর অর্থ হলো সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়, এগুলো কত ভোল্টে চলতে পারবে, কেবিন কোয়ালিটি কেমন, পিসিবি বোর্ড কেমন ইত্যাদি। এগুলো দেখেশুনেই তবে ৪-৫ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। ফলে এই সময়ের মধ্যে টিভিতে সাধারণত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না।

মোস্তাফা নাহিদ হোসেন আরো জানান, টিভি সেট অনিরাপদ হতে পারে ভালো ইলেকট্রিকসামগ্রী ও সুইচ ব্যবহার না করায় আর্থিং না থাকলে বাড়িতে বিদ্যুতের ভালো ওয়্যারিং ব্যবস্থা না থাকলে বিল্ডিং থান্ডার প্রটেকশন (বজ্রপাতের সময়) এবং টিভিতে হাইভোল্টেজ প্রটেকশন না থাকলে। বিল্ডিংয়ে থান্ডার প্রটেকশন না থাকলে আশপাশে বজ্রপাতের ফলে টিভি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে অনেক সময় বিস্ফোরণে আগুন লেগে যেতে পারে।